‘পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া রান্না হলেই মাছ নিরামিষ!’ উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির সভাপতি ওমপ্রকাশ রাজভর মাছ রান্না ও তার আমিষ-নিরামিষ রূপ নিয়ে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অভিনব মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড়।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের অপর এক ক্যাবিনেট মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। শ্রাবণ মাসে অযোধ্যায় কংগ্রেসের আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে মাছ পরিবেশন করা নিয়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়, তখন সঞ্জয় নিষাদ প্রশ্ন তোলেন যে মাছকে কি কোনোভাবেই নিরামিষ খাবার হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে? এই প্রসঙ্গে নিজের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতাদের বাংলায় গিয়ে মাছ কেনা এবং সেই মাছ খাওয়ার ছবি দেশবাসীর নজর কেড়েছে। বাংলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসবেও মাছ খাওয়ার প্রাচীন প্রচলন রয়েছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় সেখানে এই ধরনের প্রথা গ্রহণযোগ্য নয়।

এর পরই বিতর্ক বাড়িয়ে ওমপ্রকাশ রাজভর আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন যে, যদি মাছ রান্নার সময় পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার না করা হয়, তবে সেই মাছ আর আমিষ থাকে না, বরং তা সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারে পরিণত হয়। তাঁর দাবি, এই সত্যটি আমাদের সকলেরই মেনে নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে যে মাছ পরিবেশন করা হয়েছিল, তা আদৌ পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়া রান্না করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তোলা উচিত। ওমপ্রকাশ রাজভরের এই বক্তব্যের রেশ ধরে সঞ্জয় নিষাদও দাবি করেছেন যে, বহু মহারাজেরাও নাকি এই কথা মেনে নিয়েছেন যে পেঁয়াজ-রসুন বর্জন করে রান্না করলে মাছ নিরামিষের পর্যায়ে পড়ে।

অন্যদিকে, এই গোটা বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে পিছপা হয়নি বিজেপি নেতৃত্ব। উত্তরপ্রদেশ রাজ্য বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন যে এর মাধ্যমে সরাসরি সনাতন ধর্ম এবং হিন্দু ভাবাবেগকে অসম্মান করা হয়েছে। পবিত্র শ্রাবণ মাসে অযোধ্যায় এই ধরণের মাছের উৎসব আয়োজন করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ এবং এটি সনাতনী সংস্কৃতির ওপর স্পষ্ট আঘাত। সব মিলিয়ে, মন্ত্রীদের এই পরস্পরবিরোধী ও আজব মন্তব্যের জেরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত।