মোদী-ট্রাম্প বৈঠকে মিডিয়ার মুখোমুখি প্রশ্ন নিয়ে কী বলছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জুন মাসের সেই ঐতিহাসিক সফর নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়া দিল্লির অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এবার মুখ খুলল সরকারি সূত্র। সূত্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো উচ্চ-পর্যায়ের বিদেশি সফরের আগে বিশ্বনেতাদের জনসমক্ষে উপস্থিতির ব্যবস্থা বা প্রোটোকল সংক্রান্ত আলোচনা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি সম্পূর্ণ ‘স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল’।
শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান যে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে মোদী ও ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঠিক আগে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রশ্ন না নেওয়া হয়। গোরের দাবি অনুযায়ী, ফ্রেঞ্চ ইভিয়ান-লে-বেঁস-এ আয়োজিত ১৭ জুনের ওই বৈঠকের আগে ব্যাকস্টেজে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই বিষয়ে একান্ত আলোচনা হয়েছিল। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তিনি যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভারতীয় পক্ষের এই অনুরোধের কথা জানান, তখন ট্রাম্প প্রথমে রাজি হয়ে বলেছিলেন যে কোনো সমস্যা নেই এবং প্রশ্ন এড়ানো যেতে পারে।
কিন্তু পরবর্তীতে বৈঠকের সূচনা হতেই চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রায় ৫০টি ক্যামেরার সামনে যখন দুই রাষ্ট্রনেতা তাদের প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করছিলেন, ঠিক তখনই ট্রাম্প হঠাৎ উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ করে দেন। রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক পদক্ষেপে গোটা বৈঠকটি প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠকে রূপ নেয়, যেখানে দুই নেতার আলোচনা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ্যে চলে আসে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক চুক্তি সংক্রান্ত নানা জটিল বিষয় প্রাধান্য পেয়েছিল।
বিশেষ করে, সেই বৈঠকের ঠিক কিছুদিন আগেই হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল। বৈঠকে মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে হরমুজ প্রণালীতে কর্মরত বহু ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। জবাবে ট্রাম্প সামুদ্রিক যাত্রার ঝুঁকিকে খুব একটা বড় করে না দেখে এটিকে একটি ‘কঠিন পেশা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলায় ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে বাইরের যেকোনো আক্রমণের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ভারতের পাশে থাকবে। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টিও অত্যন্ত ইতিবাচক জায়গায় পৌঁছেছিল বলে ইঙ্গিত দেন তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন।