ভুয়ো খবর বা ট্রায়ালে কান দেবেন না! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে বড় বার্তা দিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

ভবানীপুরের একটি জনসভা থেকে সমাজকল্যাণমূলক অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপকরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তার জন্য প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ মানুষের টাকা দেওয়ার সুব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

গত পরশু উত্তর কলকাতার নর্দান পার্কের সুভাষ উদ্যানের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পর্কিত একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান যে, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মা, বোন ও দিদিদের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জুন মাসে ২৮ লক্ষ এবং জুলাই মাসে ১ কোটি ১৯ লক্ষ উপভোক্তাকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সমালোচকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, ধমক-চমক দিয়ে, রিল বানিয়ে কিংবা মিডিয়া ট্রায়াল করে বর্তমান সরকারের এই জনকল্যাণমূলক গতি রোধ করা যাবে না।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাসিক তিন হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম বাদ গেছে বা যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁদের জন্য পোর্টাল ব্যবহারের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষ অনলাইন পোর্টাল ব্যবহারে পটু নন, তাই বিধায়কের কর্মী, স্থানীয় মণ্ডলের ভাইয়েরা, ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা এবং মহিলা মোর্চার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সাহায্য করে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করে দিচ্ছেন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরাই আবেদন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যাতে এই আর্থিক সহায়তার সুযোগ পান, সে বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার প্রায় সাড়ে চোদ্দো হাজার থেকে সতেরো হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই এই তিন হাজার টাকা সফলভাবে ঢুকে গেছে। সাধারণ মানুষকে দালাল বা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দিয়ে সরাসরি পোর্টালে ভরসা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ১৭ অগাস্ট থেকে ২০ অগাস্টের মধ্যে এই যোজনার টাকা সফলভাবে ট্রান্সফার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।