গভীর রাতে হিমাচল থেকে সকালেই লাদাখ—ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে বাড়ছে উদ্বেগ, জানুন বিস্তারিত

সোমবারে সকালে ফের জোড়ালো ভূকম্পনে কেঁপে উঠল লাদাখের রাজধানী লেহ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা এনসিএস (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৩.৫ রেকর্ড করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি সরকারি পোস্টে এনসিএস জানিয়েছে যে ভারতীয় সময় অনুসারে ঠিক সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে এই কম্পনটি অনুভূত হয়। মাটি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল অবস্থিত ছিল। লাদাখের পাশাপাশি এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার ভোর ৩টে ৪০ মিনিটে হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলাতেও একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.০ এবং এর উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে ছিল। উল্লেখ্য, এর আগের দিন অর্থাৎ রবিবারও লাদাখের লেহ অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। রবিবার বিকেল ৩টে ৩৪ মিনিটে হওয়া সেই ভূমিকম্পের মাত্রা কিছুটা বেশি অর্থাৎ ৪.৬ ছিল এবং এর উৎসস্থল ছিল মাটি থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। পরপর দুই দিন লাদাখে এই ধরনের ভূকম্পনের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত ভূমিকম্প হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে ০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরে হলে তাকে ‘শ্যালো’ বা কম গভীরতার ভূমিকম্প বলা হয়, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীরতাকে ‘ইন্টারমিডিয়েট’ এবং ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার গভীরতার কম্পনকে ‘ডিপ’ বা গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ৭০ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় হওয়া এই ধরনের ভূকম্পনকে ডিপ-ফোকাস ভূমিকম্প বলা হয়ে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং এখনও পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।