ফুটপাত কি হাঁটার জন্য নাকি বসবাসের? পার্ক স্ট্রিট উচ্ছেদ অভিযানে সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন মন্ত্রী!

পার্ক স্ট্রিট চত্বরে ফুটপাত থেকে হকার ও জবরদখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার জল ঢেলে দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিরোধীদের সমস্ত সমালোচনার কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি, বরং ব্যস্ত রাস্তায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করার এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার যে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে, সে কথাও তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

গত রবিবার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট সংলগ্ন পেভমেন্টে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন এক ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা শুরু হয়। বিরোধীদের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় কেরোসিন স্টোভে বসানো এক শিশুর দুধের বাটি অমানবিকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফেসবুক পেজে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ফ্রি স্কুল স্ট্রিট পেভমেন্টের ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে গতকাল বিরোধীদের অনেক কান্নাকাটি শুনেছি। কিন্তু কেউ এক বাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে যাননি ওই পরিবারের কাছে। সবাই রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকেছেন।”

ঘটনার পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দুপুর দুটোর সময় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো একটি অত্যন্ত ব্যস্ত রাস্তায় ফুটপাতে মাত্র ১০ ইঞ্চি উঁচু জায়গায় একটি ছ’মাসের বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছিল, অথচ তাঁর মা বা ঠাকুরমা দূরে বসেছিলেন। কেরোসিন স্টোভে এক গামলা দুধ গরম করার বিপদের কথা তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন ছিল, এক গামলা দুধ ওই ছ’মাসের বাচ্চাটি কীভাবে খাবে? অনবরত স্কুলপড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে এ ধরনের স্টোভ জ্বালানো যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারত বলে তিনি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যে পরিবারের শিশুর দুধ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্রসঙ্গে মুখ খুলে মন্ত্রী জানান, ওই বাচ্চার মা ভিডিওতে দাবি করেছেন তিনি ধাপায় থাকেন। মন্ত্রীর কৌতূহলী প্রশ্ন, “ধাপায় যদি থাকেন, তাহলে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে এসে দুধ গরম করছিলেন কেন?” পাশাপাশি, ওই মহিলার পরিবারের বিরুদ্ধে চুরির দায়ে কাজ হারানোর অভিযোগও তিনি তুলেন।

বিরোধীদের উদ্দেশে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী সবশেষে স্বীকার করেন যে তাঁর কণ্ঠস্বর হয়তো একটু চড়া ছিল, যা কিছুটা নরম সুরেও বোঝানো যেত। তবে কলকাতাকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে হলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলকেই নিয়মনিষ্ঠ হতে হবে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন। ফুটপাত জবরদখল নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আক্রমণ করে তিনি জানান, অতীতে কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল—কেউই সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করেনি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে ফুটপাত হাঁটাচলার জন্য, বসবাসের জন্য নয়। রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা সংস্কারের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, বস্তি উন্নয়নের জন্য ‘স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন’ প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে গরিব মানুষের আবাসন সুনিশ্চিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে তিনি জানান।