দিল্লিতে হাহাকার! হু হু করে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, একদিনেই দেড়শতাধিক আক্রান্ত হয়ে কি বড় বিপদের ইঙ্গিত?

দিল্লিতে বর্তমানে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক দৈনিক পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের একটি বিশাল অংশের জন্য সরাসরি দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’-এর বিপজ্জনক উপধরন H1N1 ভাইরাস, যা সাধারণভাবে ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। গত ২০ আগস্ট দিল্লিতে একদিনেই ১৫৯ জন নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে একা ১১৪ জনই মারণ H1N1 ভাইরাসে আক্রান্ত। এই নতুন সংক্রমণের ফলে চলতি ২০২৬ সালে দিল্লিতে H1N1 আক্রান্তের মোট সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে ১,৭৭৭-এ পৌঁছেছে।

পরিস্থিতির ক্রমাবনতি এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার নড়েচড়ে বসেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ও দিল্লি সরকারের বিশিষ্ট স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইনফ্লুয়েঞ্জার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান, দিল্লিতে H1N1-এর লাগাতার বিস্তার এবং ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সুরক্ষা মূল্যায়নের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও তা কঠোরহস্ত নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারক ও চিকিৎসকরা কী কী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের ক্ষেত্রে H1N1-এর একচ্ছত্র ও ভয়াবহ প্রাধান্য অব্যাহত রয়েছে। ২০ আগস্ট শনাক্ত হওয়া মোট ১৫৯টি ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের ঘটনার মধ্যে ১১৪টিই ছিল H1N1 আক্রান্তের ঘটনা, যার অর্থ দাঁড়ায় একদিনে শনাক্ত হওয়া নতুন আক্রান্তদের প্রায় ৭২ শতাংশই সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের শিকার। শুধু তাই নয়, চলতি বছরে সাধারণ ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ (Influenza A)-তেও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্থানীয় মেডিকেল তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’-তে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বর্তমানে ২,৩৯২-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে মোট ২,৬০২ জন ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২,৩৯২ জন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ এবং ২১০ জন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা বি’ (Influenza B)-এর কবলে পড়েছেন। গত ২০ আগস্ট নতুন করে আরও চারজন ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা বি’-তে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ মানুষকে অবশ্যই কিছু মৌলিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জনসমাগমপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। হাত পরিষ্কার রাখা আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। নিয়মিত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া এবং অপ্রয়োজনে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত। যাদের মধ্যে ফ্লু-এর মতো উপসর্গ বা সর্দি-কাশি দেখা দিচ্ছে, তাঁদের অবিলম্বে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।