দীপিকাকে নিয়ে এ কী বললেন প্রযোজক! ‘স্পিরিট’ থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য

বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এবং খ্যাতিমান দক্ষিণী পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন কেবল গসিপের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দক্ষিণ ও উত্তর ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। প্রভাস অভিনীত মেগা বাজেট প্রোজেক্ট ‘স্পিরিট’ থেকে দীপিকার হঠাৎ ছিটকে যাওয়া এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শোবিজ দুনিয়ায় তীব্র উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন পরিচালক সন্দীপের ভাই তথা ছবির অন্যতম প্রযোজক প্রণয় রেড্ডি ভাঙ্গা। তাঁর একটি সাম্প্রতিক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারই নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

একটি জনপ্রিয় তেলুগু সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রযোজক প্রণয় রেড্ডি ভাঙ্গা সরাসরি দাবি করেছেন যে, অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দাবি করা এবং শুটিংয়ের শিডিউল বা ডেট ম্যানেজ করতে না পারার কারণেই দীপিকাকে এই ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে নাকি অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীপিকা সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ছবির লভ্যাংশের অংশীদারিত্ব বা প্রফিট শেয়ারিংয়ের দাবি তোলেন। শুধু তাই নয়, ছবির সামগ্রিক বাজেট ও আর্থিক রূপরেখা নিয়েও নাকি তাঁর নানা আপত্তি ছিল। তবে এই সমস্ত দাবির মাঝেই সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি করেন প্রণয়—তিনি সরাসরি দীপিকার বিরুদ্ধে ছবির মূল চিত্রনাট্য ও গোপন প্লট ফাঁস করে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন।

প্রযোজকের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল ঝড়। দীপিকার অনুরাগীরা প্রশ্ন তুলছেন, পুরুষ তারকারা যখন আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ছবির লাভের একটা বড় অংশ দাবি করেন, তখন তা ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু একজন প্রথম সারির অভিনেত্রী একই দাবি করলে কেন তাঁকে অপেশাদার তকমা দেওয়া হবে? নেটিজেনদের একটা বড় অংশের মতে, ছবির সঙ্গে পাকা চুক্তি হওয়ার আগেই নায়িকার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে। তাঁদের মতে, একজন নারী নিজের শর্তে অটল থেকে মেগা প্রোজেক্ট প্রত্যাখ্যান করায় নির্মাতাদের পুরুষতান্ত্রিক অহংকারে আঘাত লেগেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, ছবির প্রচারের আলো কাড়তেই পরিকল্পিতভাবে নায়িকার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেকোনো সিনেমার একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক বাজেট ও ভারসাম্য থাকে। যদি বাজেট এবং ডেটের বিষয়ে দুই পক্ষের বনিবনা না হয়, তবে যৌথ সম্মতিতে প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোই পেশাদারিত্বের পরিচায়ক। তবে পেশাদার মতপার্থক্য যেভাবে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির রূপ নিয়েছে, তাতে ‘স্পিরিট’ ছবির আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরুর আগেই যে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।