‘মমতা সরকার জমি দেয়নি, শুভেন্দু আসতেই সব জট কাটল!’ শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শিলিগুড়িতে সশ্রস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল মঞ্চে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, বিগত কাল থেকেই বিজেপি সরকার দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই রাজ্যে পূর্ববর্তী প্রশাসনিক প্রশাসন বা রাজ্য সরকার সীমান্ত সুরক্ষার এই মহৎ কাজে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেনি। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দেশের সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত ও সুদৃঢ় করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী সরকারের কাছে ১১২৯ একর জমানো জমির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সেই জমি হাতে পায়নি। ফলে থমকে গিয়েছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক কাজ।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে পালাবদলের পরেই সেই দীর্ঘদিনের অচলাवस्था ও জটিলতার অবসান ঘটে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব এবং সক্রিয় সদিশার ফলেই সেই জটিল জমি জট নিমেষে কেটে যায় বলে জানান তিনি। অমিত শাহ অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় বলেন যে, শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা বা দায়িত্বে আসার পরেই সংশ্লিষ্ট মেগা প্রকল্পের জন্য সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় ১১০০ একর জমি কেন্দ্রীয় হাতে তুলে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বাকি থাকা অবশিষ্ট জমিও খুব দ্রুত সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি প্রকাশ করেন। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাজ্যস্তরের এই ইতিবাচক সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক মঞ্চে আমন্ত্রিত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এসএসবি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি সর্বদা সর্বান্তকরণে বদ্ধপরিকর। শুধু তাই নয়, মোদীর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে একের পর এক কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। আগামী দিনে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat)-এর যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারণ করেছে, সেই যাত্রায় দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তিনি সর্বদাই কেন্দ্রের পাশে থাকার দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিয়েছেন। শিলিগুড়ির এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠান এবং দুই শীর্ষ নেতার এই যুগলবন্দি রাজনৈতিক মহলে যে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।