হাসপাতালের প্রিমিয়াম কেবিনে রাজকীয় নিরাপত্তা! স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আচমকাই কোথায় ফেরানো হলো ইমরান খানকে?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও তৈরি হয়েছে চরম চাঞ্চল্য। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পিটিআই (PTI) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। প্রয়োজনীয় সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই শুক্রবার ভোররাতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখা যায়। ইমরান খানের যাতায়াতের পথ এবং হাসপাতাল চত্বরকে ঘিরে ফেলা হয় দুর্গপ্রাসাদের মতো। পিত্রাস বুখারি রোড ও সার্ভিস রোড সাউথ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি (ICT) পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় আটশোরও বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল পুরো চত্বরে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক পানামগেট মামলার শুনানির সময় ফেডারেল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিতে যে ধরনের কঠোর নিরাপত্তা দেখা গিয়েছিল, বর্তমানের এই বিশাল বন্দোবস্ত তার স্মৃতিকেই উসকে দিয়েছে। রাজধানী পুলিশ এবং জেল আধিকারিকদের একটি যৌথ দল সম্পূর্ণ অপারেশনের তত্ত্বাবধান করে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তার ফাঁকফোকর না থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ২০২৩ সাল থেকে তোষাখানা মামলায় চৌদ্দ বছরের সাজা ভোগরত ইমরান খানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর রক্তচাপের মাত্রা ওঠানামা করা সহ বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় শীর্ষ আদালত এই বিশেষ পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। আদালত শরিফ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর ব্যাপক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। যদিও শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সমস্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে ইমরান খান বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কড়া পুলিশ পাহারা এবং বুলেটপ্রুফ গাড়ির কনভয়ের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত আদিয়ালা জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০২৩ সাল থেকে আইনি জালে জড়িয়ে কারাবাস করা এই জনপ্রিয় নেতার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আপডেট সামনে আসার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। কারাবন্দি নেতার শারীরিক পরিস্থিতি এবং আদালতের এই তদারকি আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে মোড় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা উপমহাদেশ।