উত্তরবঙ্গে মাদকের থাবা! চিকিৎসার জন্য আর হাহাকার নয়, সুখবর শিলিগুড়িবাসী তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের জন্য

শিলিগুড়ি-সহ গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকাসক্তির বিষাক্ত ছায়া ক্রমশ গভীর হচ্ছে। নেশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ, ভেঙে পড়ছে বহু সাজানো সংসার। সন্তানকে নেশার গ্রাস থেকে বের করে আনতে গিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে। বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের আকাশছোঁয়া খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের মানুষদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর নিয়ে এল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের অধীনে এবার চালু হতে চলেছে ইনডোর নেশামুক্তি কেন্দ্র।
এতদিন উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে মাদকাসক্তদের জন্য শুধুমাত্র বহির্বিভাগ বা আউটডোর পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু ইনডোর চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চূড়ান্ত সংকটে পড়তেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল যখন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট নেশামুক্তি প্রকল্পটি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবশেষে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের চেস্ট ওয়ার্ডের দোতলায় নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
এই নতুন ওয়ার্ডে মোট ৪০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩০টি শয্যা মানসিক রোগীদের জন্য এবং ১০টি শয্যা বিশেষভাবে নেশামুক্তি কেন্দ্রের রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে। এই ১০টি শয্যার মধ্যে পাঁচটি পুরুষ ও পাঁচটি মহিলা রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই পরিষেবা চালুর যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখেছেন প্রিন্সিপাল সুজয় মিস্ত্রি, হাসপাতাল সুপার কৌশিক কিশোর এবং অ্যাডিশনাল সুপার নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যাচ্ছে, আজ শুক্রবার কাওয়াখালি ময়দানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে একটি সরকারি কর্মসূচি রয়েছে, যেখান থেকে এই বিশেষ পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে।
চিকিৎসক মহলের মতে, সরকারি এই পরিষেবা মাদকাসক্তি নিরাময়ে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। কারণ নেশামুক্তি কেবল ওষুধ নয়, দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিং এবং পর্যবেক্ষণের বিষয়। হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি ও পুনর্বাসনের কাজ অনেক বেশি কার্যকর হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি কেন্দ্রের অপব্যবহার ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার হাত থেকে রেহাই পাবেন সাধারণ মানুষ।
যদিও ১০টি শয্যা উত্তরবঙ্গের বিপুল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য, তবুও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে। বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা বাড়লে পরিকাঠামো কতটা প্রসারিত করা সম্ভব হবে? বর্তমানে মাদকের কারবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি নেশাগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি হাসপাতালের এই দরজা খুলে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাদকের অন্ধকারে দিশাহারা উত্তরবঙ্গের বহু পরিবারের কাছে এটি এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত।