২০ টাকার ঘুষ মামলায় ৩০ বছরের আইনি লড়াই! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি পেলেন দুই সরকারি কর্মী

মাত্র কুড়ি টাকা ঘুষ নেওয়ার এক অদ্ভুত ও দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইতে অবশেষে স্বস্তি পেলেন দুই সরকারি কর্মচারী। প্রায় ৩০ বছর আগের একটি দুর্নীতির মামলায় দুই অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ১৯৯৬ সালের এই মামলায় এর আগে নিম্ন আদালত দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার এই লড়াইয়ে তাঁদের কেবল চাকরি হারাতেই হয়নি, মানসিকভাবেও চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া এবং বিচারপতি অতুল এস. চান্দুরকারের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট এই মামলায় ভুলভাবে কর্মচারীদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা স্পষ্টভাবে কোনো ঘুষ চেয়েছিলেন, তার সপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের কাছে ন্যূনতম কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছিল না। দুর্নীতির যেকোনো ফৌজদারি মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ‘ঘুষ চাওয়া’ বা ‘ডিমান্ড’ হলো একটি অপরিহার্য আইনি উপাদান, যা এই নির্দিষ্ট ঘটনায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।
মূল ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি আয়কর শংসাপত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছিল যে, শংসাপত্রটি দেওয়ার জন্য এক কেরানি ১২০ টাকা অর্থাৎ নিজের জন্য ১০০ টাকা এবং পিয়নের জন্য ২০ টাকা দাবি করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গোটা বিষয়টি গড়ায় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB)-র দপ্তরে। রাষ্ট্রপক্ষের তৎকালীন বিবরণ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ পাতা হয়েছিল এবং অভিযোগকারী সার্টিফিকেটটি হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তের পকেটে জোর করে একটি ২০ টাকার নোট গুঁজে দিয়েছিলেন। এরপর পূর্বনির্ধারিত সংকেত পাওয়া মাত্রই অভিযানকারী দল সেখানে হানা দিয়ে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
সুপ্রিম কোর্ট তার সুদূরপ্রসারী রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, শুধুমাত্র একটি কুড়ি টাকার নোট হাতবদল হওয়ার ঘটনাকে ভিত্তি করে কোনো সরকারি কর্মীকে দুর্নীতির অপরাধে সাজা দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আইনসম্মত নয়। বেঞ্চ আরও জানিয়েছে যে, প্রসিকিউশনের সামগ্রিক মামলাটি শুরু থেকেই অগ্রহণযোগ্য এবং দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে আইনি জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে দুই প্রাক্তন সরকারি কর্মী এক বিরাট আইনি স্বস্তি পেলেন, যা তিন দশক ধরে চলা দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তাঁদের সম্মান ফিরিয়ে দিল।