উৎসবের আনন্দ মাটি! হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম, পুজোর আগে মিষ্টিমুখ করতে গিয়ে কি পকেটে টান পড়বে মধ্যবিত্তের?

সামনেই বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তের ঠিক আগে খোলা বাজারে আকাশছোঁয়া চিনির দর মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। চিনির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি এবং মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মিষ্টির বাজারে। ফলে আসন্ন উৎসবের দিনগুলোতে অতিথি আপ্যায়ন বা নিজেদের মুখে মিষ্টি তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে যে বড়সড় টান পড়বে, তা নিয়ে এখন থেকেই গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাঙালির ঐতিহ্যগত সংস্কৃতিতে শেষ পাতে মিষ্টি বা যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে মিষ্টির বিকল্প কিছু নেই। অথচ বিগত মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে চিনির দাম কিলোগ্রাম প্রতি প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে যে মানসম্মত চিনি প্রতি কেজি মাত্র ৪৫ টাকায় অনায়াসে পাওয়া যেত, তা বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে সরাসরি ৬৮ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। চিনির পাশাপাশি এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হু হু করে বেড়ে চলেছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ভোজ্য তেল এবং বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামও। এর ফলে সামগ্রিকভাবে মিষ্টান্ন উৎপাদনের খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ী মিষ্টির দাম বাড়াতে শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ লাভের মার্জিন টিকিয়ে রাখতে মিষ্টির আকার বা সাইজ ছোট করে লোকসান সামাল দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের সর্বসম্মত দাবি, চিনির দাম যদি এভাবে প্রতিদিন বাড়তে থাকে, তবে মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে তাঁদের কাছে বেঁচে থাকার আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। তবে এক ধাক্কায় অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে দিলে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমবে এবং বহু ছোট ও মাঝারি মিষ্টির দোকান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আরও একটি বড় অংশের গুরুতর অভিযোগ, একশ্রেণির অসৎ মজুতদার কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চিনি আটকে রেখে এই বাজারমূল্য বৃদ্ধি করছে। এ বিষয়ে সরকারের অবিলম্বে কঠোর নজরদারি চালানো উচিত এবং চিনির বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
বর্ধমান সীতাভোগ ও মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেবাদিত্য চক্রবর্তী এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হবেন ব্যবসা বন্ধ করতে। বিগত এক মাস ধরে যে দাম ছিল, তা গত এক সপ্তাহে কুইন্টাল প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একেক গদিতে দাম একেক রকম হওয়ায় বাজারে একপ্রকারের একচেটিয়া বা মনোপলির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, আরেক স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান যে উৎপাদনের খরচ যে হারে বাড়ছে, তাতে মিষ্টির দাম কিছুটা বাড়াতেই হবে। কারণ ১০ টাকার রসগোল্লার উৎপাদন খরচ বর্তমানে ২০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে মুনাফা বজায় রাখতে গিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষকেই চরম সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।