সন্তানের মঙ্গল কামনায় মহাশুভ তিথি! কবে পালিত হবে পুত্রদা একাদশী? জেনে নিন সঠিক সময় ও পূজা পদ্ধতি

হিন্দুধর্মে একাদশী উপবাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি সরাসরি জগৎপিতা ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা হয়। পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি মাসে দু’বার করে একাদশী তিথি আসায় বছরে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সঠিক নিয়ম মেনে একাদশী ব্রত পালন ও পুজো করলে ভক্তদের সমস্ত পাপ মোচন হয় এবং জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। প্রতিটি একাদশীরই নিজস্ব স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য রয়েছে।

এর মধ্যে পুত্রদা একাদশীকে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র ব্রত হিসেবে গণ্য করা হয়। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্তানের সুখ, দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কামনাবিস্বামী ও স্ত্রী এই ব্রত পালন করে থাকেন। উল্লেখ্য, পুত্রদা একাদশী বছরে দু’বার আসে—একবার পৌষ মাসে এবং অন্যটি শ্রাবণ মাসে। শ্রাবণ মাসে যে একাদশী তিথিটি পড়ে, তাকে অত্যন্ত পবিত্র শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী বলা হয়।

চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী কবে পালিত হবে, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের পুত্রদা একাদশী তিথি শুরু হবে ২৩শে আগস্ট ভোর ২:০০ টায় এবং তা শেষ হবে ২৪শে আগস্ট ভোর ৪:১৮ টায়। শাস্ত্রীয় নিয়ম ও উদয়তিথি অনুসারে, আগামী ২৩শে আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) এই পবিত্র পুত্রদা একাদশীর ব্রত পালিত হবে। এরপর ব্রত ভঙ্গের বা পারণার নির্দিষ্ট সময় হলো ২৪শে আগস্ট সকাল ৭:১৯ থেকে সকাল ৯:৪৩ মিনিটের মধ্যে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর দিনে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার জন্য বিশেষ শুভ মুহূর্ত বা সময় নির্ধারিত রয়েছে। ভক্তরা ওই দিন সকাল ৭:৩২ থেকে দুপুর ১২:২৪ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত ভক্তিভরে ভগবান বিষ্ণুর পুজো সম্পন্ন করতে পারবেন। এই শুভ সময়ে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ এবং বিষ্ণু মন্ত্র জপ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

উপাসনার সঠিক পদ্ধতি ও নিয়ম:
এই পবিত্র দিনে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরে ভগবান বিষ্ণুর পূজা শুরু করতে হয়। পূজার সময় ভগবান বিষ্ণুকে হলুদ রঙের ফুল, মৌসুমি ফল এবং অবশ্যই তুলসী পাতা নিবেদন করতে হবে, কারণ তুলসী পাতা ছাড়া বিষ্ণু পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। সন্তানপ্রত্যাশী দম্পতিরা অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে এই উপবাস পালন করেন এবং সারাদিন নিয়ম মেনে একাদশীর ব্রতকথা শ্রবণ করেন।

পুত্রদা একাদশী ব্রত পালনের অলৌকিক উপকারিতা:

সন্তানের মঙ্গল: যোগ্য ও গুণী সন্তান লাভের মাধ্যমে সন্তান সংক্রান্ত জীবনের সমস্ত জটিলতা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।

পাপের বিনাশ: এই ব্রত পালনের ফলে অতীতের সমস্ত পাপ মোচন হয়। এমনকি শাস্ত্র মতে, শুধুমাত্র একাদশীর ব্রতকথা শ্রবণ করলেই অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদনের সমান পুণ্য লাভ করা সম্ভব।

মোক্ষ লাভ: এই উপবাসের প্রভাবে পরম গতি প্রাপ্ত হয় এবং মৃত্যুর পর আত্মা সরাসরি বৈকুণ্ঠে বা ঈশ্বরের ধামে গমন করে।

সুখ ও সমৃদ্ধি: ব্রত পালনের প্রভাবে ভক্তের গৃহে শান্তি, সুস্বাস্থ্য এবং মা লক্ষ্মীর কৃপা সর্বদা বজায় থাকে।