রাজনীতির অন্দরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ঘিরে তোলপাড়! দেশের যুবসমাজ গঠনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ভারতের যুব সমাজকে শক্তিশালী করতে প্রয়াত নেতার যুগান্তকারী অবদানের কথা নতুন করে তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন যে দেশের যুব সমাজের বর্তমান চিন্তাভাবনা ও অগ্রগতির সঙ্গে রাজীব গান্ধীর দূরদৃষ্টির এক গভীর সংযোগ রয়েছে। তাঁর নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপগুলোই আজকের তরুণ ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলার মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি বিশেষ পোস্টে জয়রাম রমেশ রাজীব গান্ধীর শাসনকালের কিছু যুগান্তকারী কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে রাজীব গান্ধীই প্রথম ভোটের বয়স এক ধাক্কায় ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করেছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় যুব দিবস চালু করা, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা, যুব নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা এবং দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির সোনালী যুগে প্রবেশ করানোর নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। রমেশের মতে, আজকের দিনে দেশের যুব সমাজের বর্তমান অবস্থান বিচার করলে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তুলে ধরা এই অবদানগুলির মধ্যে পাঁচটি প্রধান উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, সংবিধান সংশোধন করে ১৮ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার প্রদান। দ্বিতীয়ত, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবস ১২ জানুয়ারিকে সরকারিভাবে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা। তৃতীয়ত, ১৯৮৮ সালের নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে দেশজুড়ে ‘নবোদয় বিদ্যালয়’ নেটওয়ার্কের সূচনা। চতুর্থত, জেলা স্তরে ‘নেহেরু যুব কেন্দ্র সংগঠন’ প্রতিষ্ঠা, যা বর্তমানে ‘MY Bharat’ নামে পরিচিত। পঞ্চমত, ভারতকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে উন্নীত করে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

এদিকে নয়াদিল্লির বীরভূমিতে রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে দলীয় স্তরে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। সদ্ভাবনা দিবসে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সেখানে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজীব গান্ধীকে এক দূরদর্শী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে তাঁর আনা পরিবর্তন ও প্রযুক্তির ওপর অগাধ বিশ্বাসের ফলেই ভারত একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে পেরেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে রাজীব গান্ধীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে হলে দেশের সম্প্রীতি ও মিলনের চিরন্তন চেতনাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

১৯৮৪ সালের অক্টোবরে ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণের পর অত্যন্ত অল্প বয়সে দেশের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন রাজীব গান্ধী। তাঁর সরকারের গৃহীত কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির নীতি আমদানির ওপর শুল্ক কমিয়ে দেশে এক বিশাল সফটওয়্যার শিল্পের ভিত তৈরি করেছিল। ১৯৮৮ সালে তাঁর নীতিই ‘NASSCOM’ প্রতিষ্ঠায় সরাসরি সাহায্য করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ২১ মে এক নির্বাচনী জনসভায় তাঁর মর্মান্তিক প্রয়াণ ঘটলেও আধুনিক ভারতের প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিকাঠামো গঠনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।