বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, জলের তলায় শয়ে শয়ে গ্রাম!

টানা বৃষ্টিতে নদনদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায় চলে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন এবং কেশোয়াড়ির পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটজনক।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে নিজে মাঠে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ তিনি সরাসরি সবং সহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। এরপরই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে সবংয়ে। সেখানকার তেরোটি গ্রাম পঞ্চায়েতই সুবর্ণরেখা এবং কেলেঘাই নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, ইতিমধ্যেই এক তিন বছরের শিশু সহ দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে ছ’শোরও বেশি গ্রাম জলের তলায় চলে যাওয়ায় বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীগ্রাম, ময়না, ভগবানপুর এবং পটাশপুরের বিভিন্ন বাড়িতেও জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই একাত্তটি ত্রাণশিবির চালু করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দ্রুত ত্রিপল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। ওদিকে হুগলির আরামবাগের অবস্থাও বেশ উদ্বেগজনক।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। দুর্গতদের উদ্ধারে এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)-কে। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় চারশো জন সিভিল ডিফেন্স কর্মীও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যাওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার।