ছাগল চুরি দেখতেই চরম পরিণতি! ১২ বছরের কিশোরকে লিচু গাছে ঝুলিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদহ!

মালদহের কালিয়াচক-১ ব্লকের সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চামাগ্রাম বাগানপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার একটি লিচুবাগান থেকে ফাহিম শেখ নামের মাত্র ১২ বছরের এক নাবালকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই কিশোরের পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এলাকার কিছু দুষ্কৃতীর ছাগল চুরির ঘটনা চাক্ষুষ করে ফেলায় অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পরবর্তীতে হত্যার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দিতে বা প্রমাণ লোপাট করার অসৎ উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি লিচু গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নিহত ফাহিম তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। ঘটনার দিন সে বাড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল, সেই সময় কোনো পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফোন করে ডেকে পাঠায়। এর মাত্র আধ ঘণ্টা পরেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর এসে পৌঁছায় পরিবারে। ফাহিমের শোকার্ত মায়ের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে এবং তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গাছের ঠিক নিচেই পড়ে থাকা চটি এবং মৃতদেহের শারীরিক অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাও একবাক্যে দাবি করেছেন যে এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত খুন।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সন্দেহে জসিম শেখ নামের এক স্থানীয় যুবককে আটক করে বেধড়ক মারধর বা গণপ্রহার করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কালিয়াচক থানার পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মারাত্মক জখম অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে শিলাপুর গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জসিম শেখকে আটক করেছে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানে জোর তল্লাশি শুরু করেছে।