রিষড়া জঙ্গি কানেকশনে ফের বড় গ্রেফতারি! এসটিএফের জালে পাকিস্তানি চর রানার আরও এক মূল সহযোগী

রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আবারও এক বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। হুগলির রিষড়া থেকে ধৃত সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গি রানা রউফ মামলার তদন্তে নেমে আরও এক সহযোগীকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃত এই নতুন ব্যক্তির নাম জাফর শাম। এসটিএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই জাফর শামই কুখ্যাত পাকিস্তানি এজেন্ট রানাকে অত্যন্ত সুকৌশলে নেপাল সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিল। এই গ্রেফতারির পরই রাজ্যজুড়ে আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রিষড়া থেকে রানা রউফকে গ্রেফতার করার পর থেকেই তার সহযোগীদের খোঁজ চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। দীর্ঘ জেরা ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে জালে আসে জাফর শাম। এসটিএফের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, রানার ভারতে নিরাপদ আশ্রয় এবং ভুয়ো নথিপত্র তৈরির নেপথ্যে এই জাফরের একটা বড় ভূমিকা ছিল। নেপাল রুট ব্যবহার করে কীভাবে ভারতে নাশকতামূলক পরিকল্পনা বা স্লিপার সেল সক্রিয় করার ছক কষা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, রানা এবং জাফরের পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র বা হ্যান্ডলার সক্রিয় রয়েছে। রাজ্যজুড়ে গোপন আস্তানাগুলোতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই জঙ্গি মডিউলের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। খাস বাংলায় এই ধরনের মডিউলের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।