কলকাতার বুকে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে পুড়ে ছাই ৯ প্রাণ, ঘটনাস্থলে মন্ত্রীরা

কলকাতার ব্যস্ততম প্রাণকেন্দ্র মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি নামী হোটেলে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে গোটা রাজ্য। গভীর রাতের এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে সর্বমোট ৯ জন মানুষের প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ওই হোটেলের ঘরগুলি থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই শহরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল এবং কীভাবে নিরাপত্তা বিধিকে বুড়ো আঙুল রেখেই হোটেলটি বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ প্রশাসন।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাজ্যের বিশিষ্ট মন্ত্রী ও নেতৃত্ববৃন্দ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী। পুড়ে যাওয়া হোটেল ভবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিস্থিতি ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং কীভাবে এই ধরনের বেআইনি ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হোটেল চলছিল, তা নিয়ে কড়া ভাষায় রাজ্য প্রশাসনের নজরদারির ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই ধরনের হোটেলগুলির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

ইতিমধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য উদঘাটন করতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ সিট (SIT) বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল তদন্তকারী দলটির সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন ডিসি ডিডি (DC DD)। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার চরম ঘাটতি এবং গাফিলতির ফলেই আগুনের লেলিহান শিখা এত দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আটকে থাকা আবাসিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি দিক খতিয়ে দেখে এই ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট ধারায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হোটেল মালিক, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো প্রশাসনিক অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শহরের বুকে এই ধরনের বেআইনি হোটেল ও লজের রমরমা কারবার বন্ধ করতে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।