২১ বছরে ২৫ বার বদলি! সৎ ও কড়া আইএএস তুকারাম মুন্ডের নাম শুনলেই কেন বুক কাঁপে দুর্নীতিবাজদের?

মহারাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সৎ আইএএস আধিকারিক তুকারাম হরিভাউ মুন্ডে ফের তাঁর আপসহীন কর্মপদ্ধতির জন্য শিরোনামে উঠে এসেছেন। মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর কমিশনারের পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ভেজালকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছেন। তাঁর এই মারকাটারি পদক্ষেপে যেমন খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অসাধু ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই তাঁর দীর্ঘ ট্রান্সফার রেকর্ডও ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
সম্প্রতি এনডিটিভি প্রফিট-এর একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে ঘুষ নেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি মনে করি না, এই ধরনের সাহস কেউ দেখাতে পারবেন। ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একশো বার ভাবতে হবে।” ২০০৫ ব্যাচের এই মেধাবী আইএএস আধিকারিকের প্রায় ২১ বছরের চাকরিজীবনে ইতিমধ্যেই ২৫ বার বদলি হয়েছে। এই রেকর্ড তাঁকে হরিয়ানা ক্যাডারের জনপ্রিয় প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক অশোক খেমকার সমকক্ষ করে তুলেছে।
গত ২৫ মে মহারাষ্ট্র এফডিএ-র কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ভেজাল ও খাদ্য নিরাপত্তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে রাজ্যজুড়ে ১,১০০-রও বেশি পরিদর্শন চালিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১.৬ লক্ষ লিটার ভেজাল দুধ। পাশাপাশি ৫৬টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং সংগঠিত গুটখা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর এমসিওসিএ (MCOCA) আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। পেপসিকো, রেড বুল ও স্টিংয়ের মতো বৃহৎ সংস্থাকেও নিয়ম মেনে চলার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মারাঠাওয়াড়ার বীড জেলার তাড়সোনা গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে ১৯৭৫ সালের ৩ জুন জন্ম নেওয়া তুকারাম মুন্ধে ২০০৪ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে কুড়ি তম স্থান অর্জন করেন। বালি মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিরলস লড়াইয়ের জন্য তাঁকে ‘ম্যান অফ এ মিশন’ বলা হয়। এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপসকারী কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।