রাজভবন অভিমুখে তেজস্বীর মেগা মার্চ! বিহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড ও পুলিশি হিংসার প্রতিবাদে উত্তাল পাটলিপুত্র

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার দমনপীড়ন ও একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নজিরবিহীন ঘটনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিহার। এই রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, পরপর পরীক্ষা ফাঁস এবং প্রশাসনিক স্বৈরাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) উদ্যোগে পাটলিপুত্র জুড়ে এক বিশাল রাজভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের সরাসরি নেতৃত্ব এই গণআন্দোলনে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজপথ কাঁপিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন।
এদিনের এই মেগা কর্মসূচির সূত্রপাত হয় পাটনার ঐতিহাসিক জেপি গোলম্বর চত্বর থেকে, যেখান থেকে রাজভবন অভিমুখে একটি বিশাল মিছিল এগিয়ে যায়। শুধু রাজধানী পাটনাতেই নয়, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিওয়ান জেলাতেও প্রতিবাদী RJD কর্মীরা অভিনব কায়দায় কাঠের তৈরি একে-৪৭ রাইফেল হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই মিছিল থেকে সরকারের শিক্ষানীতি এবং পুলিশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট RJD সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, “আজ দেশের ও বিশেষ করে বিহারের গোটা যুবসমাজ চরম ক্ষুব্ধ। আমাদের রাজ্যে পরীক্ষা ফাঁস এখন একটি নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষিত যুবসমাজ আর এই বেকারত্বের অভিশাপ সহ্য করবে না। আমাদের এই মিছিল কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বাঁচানোর একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানের দাবি।”
অন্যদিকে, দলের বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র এই পুলিশি বর্বরতার তীব্র নিন্দা করে জানান, “নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসা নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন থামবে না।” তবে এই গণআন্দোলন দমাতে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে RJD শিবির। মিছিলে যোগ দিতে আসা বিপুল সংখ্যক যুবককে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং পাটনা থেকে বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে পুলিশি আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তেজস্বী যাদব। সিওয়ান জেলার গত ২৫ জুলাইয়ের সেই ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে কেবল সাময়িক বরখাস্ত করা যথেষ্ট নয় দাবি করে, তাকে ওই মারণাস্ত্র বহন করার অনুমতি দেওয়ার নেপথ্যে থাকা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।
এদিকে এই বিশাল গণআন্দোলন ও ছাত্র অসন্তোষের জেরে অস্বস্তিতে পড়া রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি সরাসরি তেজস্বী যাদবকে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন যে, খোদ দলের ভেতরেই নিজের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছেন তেজস্বী। তাঁর দাবি, RJD কর্মীরা এখন তেজস্বীর ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন, আর সেই কারণেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব বাঁচানোর এক রাজনৈতিক নাটক মাত্র এই রাজভবন অভিযান।