শেষ মুহূর্তে বাদ পড়ার কথা ছিল! কীভাবে মাধুরী দীক্ষিতের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় আইকনিক গান হয়ে উঠল ‘ধক ধক’?

ধক ধক গানটি ছাড়া যেন ১৯৯২ সালের সাড়া জাগানো ছবি ‘বেটা’ (Beta)-র কথা ভাবাই যায় না। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো এর গভীরতা বুঝতে পারবে না, কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এই একটি গানের আবেদনই ছিল সম্পূর্ণ আলাদা মাত্রার। মাধুরী দীক্ষিতের মোহময়ী নাচ, লিজেন্ডারি কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের আইকনিক নির্দেশনা আর অনিল কাপুরের সঙ্গে তাঁর অনবদ্য রসায়ন—সব মিলিয়ে ‘ধক ধক করনে লাগা’ হয়ে উঠেছিল সেই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় বলিউড ট্র্যাক। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, এই গানটি ছবির প্রাথমিক পরিকল্পনায় দূরদূর পর্যন্ত ছিল না!

ছবি প্রায় তৈরি হয়ে যাওয়ার পর পরিচালক ইন্দ্র কুমার ও নির্মাতাদের মনে হয়েছিল, গল্পে আরও একটি দুর্দান্ত আকর্ষণ দরকার। সেই খুঁতখুঁতে ভাব থেকেই একেবারে শেষ মুহূর্তে যুক্ত করা হয় এই গানটি। তবে সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গানটি নিয়ে মাধুরী দীক্ষিতের শুরুতে একেবারেই আগ্রহ ছিল না। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় এই প্রস্তাব ফিরিয়েই দিতে চলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই গানটিই তাঁর গোটা অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও তাঁকে ‘ধক ধক গার্ল’ খেতাবে ভূষিত করে।

ছবির ডেডলাইন মেটাতে মাধুরীকে টানা তিন রাত ধরে এই নাচের কঠিন শুটিং করতে হয়েছিল। তবে কম মানুষই জানেন, এই জনপ্রিয় হিন্দি গানটির সুরের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায়। ১৯৯০ সালের একটি জনপ্রিয় তেলুগু ছবির গানের সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আনন্দ-মিলিন্দ এই হিন্দি সংস্করণটি তৈরি করেছিলেন। কিংবদন্তি সুরকার ইলাইয়ারাজার সেই সৃষ্টিকে নতুন রূপ দিয়ে বলিউডে নিয়ে আসা হয়। শেষ মুহূর্তে তৈরি হওয়া এই মাস্টারপিস শুধু ‘বেটা’ ছবির বক্স অফিস সাফল্যই নিশ্চিত করেনি, বরং ভারতীয় পপ কালচারের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অধ্যায় হয়ে রয়েছে।