মোদীর দলে বিরাট রদবদল, নতুন কো-কভেনরদের টাইমলাইন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন শুরু হলো শোরগোল?

ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তাদের নতুন জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়া টিম ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক অদ্ভুত ও রহস্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের সভাপতি নীতিন নাবীনের নেতৃত্বে হওয়া এই বড় সাংগঠনিক রদবদলে অমিত মালভীয়র দীর্ঘদিনের জায়গায় নতুন সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দীপক মহাসেলে। তাঁর নতুন টিমে চারজন সহ-সংযোজক বা কো-কভেনরের নাম ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে প্রীতি গান্ধী এবং অলোক ভাটের নাম রয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই এই দুই হেভিওয়েট নেতার অফিসিয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার) অ্যাকাউন্টগুলির টাইমলাইন হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যায় অথবা সেখান থেকে সমস্ত সাম্প্রতিক পোস্ট আচমকা উধাও হয়ে যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সোমবার নতুন নিয়োগের কথা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রযুক্তিগত ও দৃশ্যমান পরিবর্তনটি সকলের নজর কাড়ে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে, প্রীতি গান্ধী এবং অলোক ভাটের হ্যান্ডেল থেকে সাম্প্রতিক কোনো মৌলিক পোস্ট বা টুইট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পুরো টাইমলাইনটি হয় সাময়িকভাবে দুর্গম করে রাখা হয়েছে অথবা সেখানে কোনো পাবলিক পোস্ট দৃশ্যমান হচ্ছে না। এই আচমকা পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি কিংবা সংশ্লিষ্ট দুই নেতার তরফ থেকে কোনো রকম আনুষ্ঠানিক বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে যে, অ্যাকাউন্টগুলি কি স্বেচ্ছায় বা সুকৌশলে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, নাকি পুরনো পোস্টগুলোর কোনো উচ্চপর্যায়ের স্ক্রুটিনি বা পর্যালোচনা চলছে?
উল্লেখ্য, প্রীতি গান্ধী দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। মুম্বইয়ের এই নেত্রী এর আগে মহিলা মোর্চার সোশ্যাল মিডিয়া এবং মহারাষ্ট্রের রাজ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব সামলেছেন। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা অলোক ভাটও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নীতিগত ইস্যুতে তাঁর দীর্ঘ থ্রেড ও গবেষণাধর্মী পোস্টের জন্য ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয়। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাঁদের পোস্ট গায়েব হওয়ার পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, দলীয় পদে আসার পর ব্যক্তিগত মতামত যাতে পার্টির অফিশিয়াল স্ট্যান্স হিসেবে ভুল না বোঝায়, সেজন্য পুরনো কনটেন্ট রিভিউ করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, নতুন টিম থেকে ডিজিটাল কমিউনিকেশনে আরও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপও হতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা জানতে দল বা ওই দুই নেতার বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।