তারাপীঠে ৯ জনের মৃত্যুর পরেই বিরাট কোপ! একঝটকায় বন্ধ হয়ে গেল ১৫টি হোটেল

তারাপীঠ মন্দিরের কাছে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ঘটনার জেরে সোমবারই হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করার পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার হোটেলের মূল মালিক প্রবীর পালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তারাপীঠের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও দমকলের শংসাপত্র না থাকায় একলপ্তে ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে হোটেলগুলি বন্ধ হচ্ছে

রামপুরহাটের মহকুমা শাসক (SDO) জানিয়েছেন, একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এবং নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও হোটেলগুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়নি। আজ থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে আদর্শ হোটেল, নকুলচন্দ্র লজ, শৈলেন ভবন, গীতশ্রী গেস্ট হাউস, বীরভূম লজ, হরেকৃষ্ণ ভবন, গিরিধারী ভবন, হোটেল দেব, তাপ্তি লজ, ভোলানাথ ভবন, আনন্দ ভবন, স্বস্তিক নিবাস, সন্দীপ লজ, কেশরী লজ ও দত্ত ভবন।

কৌশিকী অমাবস্যার আগে বিশেষ অডিট ও কড়া নজরদারি

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে তারাপীঠ মন্দিরের ঠিক সামনে ওই হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে বহু পুণ্যার্থীর মৃত্যু ও জখম হওয়ার ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে অনুমান করা হলেও, হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাধারণ মানুষ ও তীর্থযাত্রীরা।

আসন্ন ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। ওই দিন তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের বিপুল জনসমাগম হয়। তার আগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস ও হোমস্টেতে স্থায়ী অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। রামপুরহাটের এসডিও, এসডিপিও, ফায়ার অফিসার, বিদ্যুৎ দফতর ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এই বিশেষ অডিটের কাজ পরিচালনা করবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।