বোরখার আড়ালে নিখুঁত মাস্টারপ্ল্যান! নামী গয়নার দোকান থেকে চোখের পলকে গায়েব ৭০ গ্রাম সোনার হার!

সোনার আকাশছোঁয়া দাম দেখে এমনিতেই সাধারণ মানুষের ছ্যাঁকা লাগার দশা। আর ঠিক এই সময়েই এক নামী গয়নার দোকান থেকে প্রায় ৭০ গ্রাম ওজনের একটি বহুমূল্য সোনার হার রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেল। তাও আবার দিনের একেবারে ব্যস্ততম সময়ে। ক্রেতার ছদ্মবেশে দোকানে ঢুকে প্রায় ৭০ গ্রাম ওজনের এই ভারী সোনার হার চুরির অভিনব কায়দা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছে পুলিশ প্রশাসনও। এই দুঃসাহসিক ঘটনার জেরে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলের অন্দরেও তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে যে, সম্প্রতি তেলঙ্গানার সঙ্গারেড্ডি জেলার জহিরাবাদ এলাকার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গয়নার দোকানে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন ওই দোকানে মোট চারজন অপরাধী প্রবেশ করেছিল, যার মধ্যে তিনজন মহিলা এবং একজন পুরুষ ছিল। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ওই তিন নারীই বোরখা পরে নিজেদের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ ঢেকে রেখেছিল এবং সঙ্গে থাকা পুরুষটির মাথা ঢাকা ছিল একটি টুপি দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত স্বাভাবিক সাধারণ ক্রেতার ভান করে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা দোকানের কর্মীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় ও ভারী গয়না দেখানোর জন্য অনুরোধ জানায়।
গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী দোকানের কর্মীরা একের পর এক বহুমূল্য গয়না তাঁদের সামনে সাজিয়ে দেখাতে থাকেন। আর ঠিক সেই সুযোগটিকেই নিখুঁতভাবে কাজে লাগায় ওই অপরাধী দল। সুকৌশলে তারা দোকানকর্মীদের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয় এবং সকলের অগোচরে প্রায় ৭০ গ্রাম ওজনের ওই দামি সোনার হারটি সুচারুভাবে সরিয়ে নেয়। কাজ হাসিল হওয়ার পর কোনো রকম সন্দেহ তৈরি না করেই তারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দোকান থেকে বেরিয়ে চম্পট দেয়। দোকানের কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী, তাদের গতিবিধি বা আচরণে এমন কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ওপর সন্দেহ করা যেতে পারে।
তবে ওই চক্রটি দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দোকান কর্তৃপক্ষ যখন স্টক মেলাতে যান, তখনই তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। তাঁরা বুঝতে পারেন যে ৭০ গ্রাম ওজনের মূল্যবান হারটি নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তারা স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং সমস্ত ঘটনাটি বিস্তারিত জানান। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের প্রথম ধাপেই পুলিশ ওই গয়নার দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন অর্থাৎ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। দোকানে প্রবেশ করার পর অভিযুক্তরা ঠিক কী ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল, তারা মোট কতক্ষণ দোকানের ভেতরে সময় কাটিয়েছিল এবং ঠিক কোন রুট দিয়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে—প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এছাড়া দোকানে ঢোকার ঠিক আগে অভিযুক্তরা বাইরে কী করছিল, তারা কোথা থেকে এল এবং ঘটনার আগে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ‘রেকি’ বা পূর্বপরিকল্পনা করেছিল কি না, সেই প্রতিটি সম্ভাবনাই এখন জোরদার তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চুরির নেপথ্যে কোনো পাকা অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযুক্তদের আসল পরিচয় উদঘাটন করতে এবং ঘটনার দিন তাদের সম্পূর্ণ গতিবিধি চিহ্নিত করতে জোর কদমে তল্লাশি চলছে। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে সতর্কতা জারি করে পুলিশ স্থানীয় সমস্ত গয়নার দোকানগুলিকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একসঙ্গে একাধিক অপরিচিত ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে যদি অতিমূল্যবান গয়না দেখাতে বলে, তবে দোকানের কর্মীদের আরও অনেক বেশি সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে। গয়না প্রদর্শনের সময় যেন কোনো না কোনো কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে সেই ক্রেতাদের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখতে পারেন, সেই সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্যও দোকান মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বোরখার আড়ালের আসল মুখগুলিকে খুঁজে বের করে পুলিশ এই রহস্যের জট খুলতে সফল হয় কি না।