নামের ভুলে চরম বিপাকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী! ভাইরাল হওয়া অপরাধীর তকমা পেয়ে যা বললেন অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায়!

চলতি মাসেই বান্দ্রা-গঙ্গানগর আরাবলি এক্সপ্রেসে সিট নিয়ে বচসা ও আরপিএফ (RPF) কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় এক মডেলের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নামবিভ্রাটের জেরে মারাত্মক হেনস্তার শিকার হন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায় (Antara Banerjee)। যদিও তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান, তবে ৩১ বছর বয়সের এই বাঙালি তনয়া বিতর্কের জেরে নিমেষে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যান। পরবর্তীতে পরিষ্কার হয় যে, নামের বিভ্রান্তির কারণেই তাকে এই বিনা মেঘে বজ্রপাতের শিকার হতে হয়েছে। ট্রেনের সেই বিতর্ক, নাম বিভ্রাট এবং কটাক্ষ-সমালোচনা কীভাবে সামলেছেন, তার বিস্তারিত দিক ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
ইটিভি ভারত-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি যখন নিজের ইএমএস সেশন শেষ করে বাড়ি ফিরে স্নান সেরে বের হন, তখন তার ফোনে ৬০টিরও বেশি মিসড কল এবং বহু মেসেজ দেখতে পান। কী ঘটেছে সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। এক বন্ধুর পাঠানো একটি খবরের লিংক খুলতেই তিনি দেখতে পান যে, একটি অপরাধমূলক খবরের বিবরণের সঙ্গে তার নিজস্ব ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আত্মীয় ও বন্ধুদের ফোন করে জানতে পারেন যে, অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক মহিলার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, তাদের দুজনের নাম এক হলেও তিনি সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন থানের মডেল অন্তরা সোহম বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনগত বা এফআইআর যাচাই করলেই এটা পরিষ্কার হয়ে যেত যে দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু নামের মিল এবং ইংরেজি বানানের সামান্য পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে তার ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার সঙ্গে তার দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এই মিথ্যা খবর তাকে এবং তার পরিবারকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেয়। খবর প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি ৯০০-এর বেশি ফোন কল ও সোশাল মিডিয়া মেসেজ পান। সবার কৌতূহল মেটাতে গিয়ে তিনি তীব্র মানসিক চাপের মুখে পড়েন।
সাংবাদিকতার ভুল প্রসঙ্গে অন্তরা বলেন, কোনো খবর প্রকাশের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সবার আগে ব্রেকিং নিউজ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে নিখুঁত তথ্য পরিবেশন করা বেশি দরকার। এই ধরনের ভুল তার পেশাগত ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, একজন শিল্পীর ভাবমূর্তি বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠে, যা একটি ভুলের কারণে নিমেষে নষ্ট হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে এটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো লড়াই নয়, বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য একটি বিনীত আবেদন।
নিজের কর্মজীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে অন্তরা জানান যে তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। তার অভিনীত কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বাধো বহু’, ‘কসৌটি জিন্দেগি কে’ এবং ‘দিব্য দৃষ্টি’। এ ছাড়া তিনি টি-সিরিজের লখবিন্দর ওয়াদালির গাওয়া ‘ছাপ তিলক’ মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন। বর্তমানে দেড় বছরের বিরতির পর তিনি নতুন ও ভালো সুযোগের সন্ধান করছেন। নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে তিনি ইতিমধ্যে সব মিডিয়া আউটলেটকে তার ছবি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন।