ট্রেনের খাবারে বিষের আশঙ্কা! বড়সড় কড়া পদক্ষেপ আইআরসিটিসি-র, নড়েচড়ে বসল রেল মন্ত্রক

রেলযাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের সর্বোচ্চ গুণমান, কঠোর নিরাপত্তা এবং নিখুঁত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও কয়েক গুণ জোরদার করল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তরফে ট্রেন এবং বিভিন্ন স্টেশনে অননুমোদিত খাবার, নিম্নমানের পানীয় এবং অবৈধ প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার (PDW) বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ ও ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসম্মত পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
রেলের কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে দেশের বিভিন্ন জোনে একাধিক ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলি ট্রেন এবং স্টেশনগুলির সমস্ত ক্যাটারিং ইউনিটগুলিতে আচমকা পরিদর্শন চালিয়ে লাইসেন্স, আইনি অনুমোদন, খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত সরকারি নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি লখনউ রিজিয়নের বিভিন্ন স্টেশনে আইআরসিটিসি ও রেলের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে মোট ১১৭টি ট্রেন পরিদর্শন করে ৫,২৪১ বোতল অবৈধ প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
একইভাবে চণ্ডীগড় রিজিয়নের উদ্যোগে আম্বালা, লুধিয়ানা, অমৃতসর, কাটরা এবং জম্মু-সহ বিভিন্ন স্টেশনে কড়া তল্লাশি চালানো হয়েছে। ৫১টি ট্রেন পরীক্ষা করে ৩,১০৮ বোতল অননুমোদিত জল বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আম্বালায় আইসক্রিম ও ফ্লেভার্ড মিল্ক-সহ ১৩ কার্টন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। সাহারানপুর, সাবরমতী এবং দেশের ব্যস্ততম হাওড়া স্টেশনেও রেলের কমার্শিয়াল বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে কিউআরটি। উত্তর-পূর্ব ভারতের গুয়াহাটি, কামাখ্যা, আগরতলা, কাটিহার, নিউ জলপাইগুড়ি এবং ডিব্রুগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও ট্রেনেও এই নজরদারি অবিচ্ছিন্নভাবে চালানো হয়েছে।
আইআরসিটিসির এই আকস্মিক অভিযানে অননুমোদিত জলের বোতলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম আদায়, কর্মীদের পরিচয়পত্র, পরিচ্ছন্নতা, পেস্ট কন্ট্রোল এবং সরঞ্জামের মান কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ক্যাটারিং সংস্থাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ট্রেনে কোনোভাবেই অননুমোদিত সামগ্রী মজুত বা বিক্রি করা না হয়। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার উপহার দিতে আগামী দিনেও এই মেগা অভিযান অব্যাহত থাকবে।