মিঠুনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই স্বস্তি টলিপাড়ায়! কাকে ‘মহানায়ক’ বলে ডাকলেন কলাকুশলীরা?

মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) সঙ্গে সোমবার নন্দনে দীর্ঘ বৈঠকের পর অবশেষে স্বস্তির হাসি ফুটল টালিগঞ্জের সিনে পাড়ার কলাকুশলীদের মুখে। টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ কাটাতে কলাকুশলীদের গিল্ড, প্রযোজক ও পরিবেশকদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন অভিনেতা-বিধায়ক তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh) অসামান্য অবদান রয়েছে বলেই দাবি করেছেন কলাকুশলীরা। খুশির আবেগে ভেসে এদিন রুদ্রনীলকে ‘মহানায়ক’ বলে ভূষিত করেন প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের সদস্য নিরুপম দে (বাবাই)।

টলিপাড়ার এই অস্থিরতা কাটাতে ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে ফেডারেশন, টেকনিশিয়ান্স গিল্ড এবং ইম্পা (IMPA)-র দেখভালের দায়িত্ব অর্পণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর এই পদক্ষেপে বেজায় খুশি টেকনিশিয়ানরা থেকে শুরু করে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (Roopa Ganguly) ও রুদ্রনীল ঘোষেরা। বৈঠক শেষে প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের পক্ষ থেকে নিরুপম দে জানান, গত ৪ জুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে তাঁরা গিল্ডে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন। অবশেষে সরকারপক্ষ সেই দাবির সপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব দিয়েছে যে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন কমিটি ও ফেডারেশন তৈরি হবে।

নিরুপমের মতে, সরকারি আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কোনো গিল্ডের সেক্রেটারি বাইরে থেকে নিজের মতো করে নির্বাচন কমিশনার নিয়ে আসতে পারবেন না। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি গিল্ডের কমিটি গঠিত হবে, যা নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। নিরুপম আরও বলেন যে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকারের লড়াই লড়ছেন। এই কঠিন সময়ে রুদ্রনীল ঘোষ যেভাবে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, থানায় গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করেছেন এবং তাঁদের পাশে থেকেছেন, তার ঋণ তাঁরা কোনোদিনই ভুলবেন না। দিনরাত টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে মামলা ও এফআইআরের জাঁতাকলে যখন তাঁদের জীবন ওষ্ঠাগত ছিল, তখন ত্রাতা হয়ে পাশে ছিলেন রুদ্রনীল। তাই তাঁকে ‘মহানায়ক’ তকমা দেওয়াই উপযুক্ত বলে মনে করেন কলাকুশলীরা।

অন্যদিকে, রূপসজ্জা শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুও এই প্রসঙ্গে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে ফেডারেশন আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সবমিলিয়ে, মিঠুন চক্রবর্তীর মধ্যস্থতায় এবং তারকাদের সক্রিয় সহযোগিতায় টলিপাড়ায় যে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।