জাতিগত শুমারি নিয়ে মোদীর ইউ-টার্ন? কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলল কংগ্রেস!

জাতিগত আদমশুমারি নিয়ে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের ওপর আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বর্তমান কেন্দ্র সরকার কোনো না কোনোভাবে জাতিগত আদমশুমারি বন্ধ বা বানচাল করতে চাইছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নিজস্ব হলফনামায় খোদ কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে একটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিল, তবে কেন ২০২৭ সালের আসন্ন আদমশুমারিতে জাতি নির্বাচনের জন্য কোনো ড্রপ-ডাউন মেনু রাখা হলো না?
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পূর্বে এই ধারণার ঘোর বিরোধিতা করে এটিকে ‘শহুরে নকশাল’ তত্ত্ব বলে কটাক্ষ করলেও, পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০শে এপ্রিল নিজেই হঠাৎ করে জাতিগত আদমশুমারি করানোর ঘোষণা দিয়ে একটি বড় ইউ-টার্ন নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সরকার সেই ইউ-টার্নের ওপর দাঁড়িয়েও আবার উল্টো পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ তুলেছে হাত শিবির। কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর মোদী সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দিয়ে জাতিগত আদমশুমারির দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছিল।
ওই আলোচিত হলফনামার ১২(ঘ) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০১১ সালের আদমশুমারি পরিচালনার পূর্বে সুনির্দিষ্ট কোনো জাতি তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। সেখানে আরও বলা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো আদমশুমারি হয়, তবে জাতি তালিকায় জাতি নির্বাচনের জন্য একটি ড্রপ-ডাউন মেনু থাকা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়, যা থেকে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। জয়রাম রমেশের মূল প্রশ্ন হলো, সরকার নিজেই যেখানে অতীতে সুপ্রিম কোর্টে এই ব্যবস্থার কথা স্বীকার করেছিল, তবে এখন ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে সেই ড্রপ-ডাউন মেনুর ব্যবস্থা রাখতে সরকারের অনীহা কেন? তিনি দাবি করেন যে, বিহার এবং তেলেঙ্গানার রাজ্যভিত্তিক জাতিগত সমীক্ষার বহু আগেই এই ধরনের একটি কারিগরি মেনু প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ২০২৫ সালের ৫ই মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি সুনির্দিষ্ট চিঠি লিখে এই একই ধরনের একটি ড্রপ-ডাউন মেনুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
কংগ্রেসের মতে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, মোদী সরকার জাতিগত শুমারির প্রক্রিয়াটিকে অবমূল্যায়ন বা বানচাল করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘ইউ-টার্নের ওস্তাদ’ বলে কটাক্ষ করে বিরোধী শিবির জানিয়েছে যে, কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকার বারবার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের জেরে আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে জাতিগত আদমশুমারি ইস্যুটি যে এক নতুন ও তীব্র রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।