‘ড্রাইভার সাহেবের এত বড় জলবা!’ উর্দি পরে পা টেপার চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তুলকালাম কানপুরে!

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক মহলে চরম শোরগোল ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক হোমগার্ড অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে অন্য এক ব্যক্তির পা টিপে দিচ্ছেন। প্রাথমিক সূত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, এই বিতর্কিত ভিডিওটি কানপুরের ঘাটপুরের এসডিএম (SDM) অবিরল প্রতাপ সিং-এর সরকারি বাসভবনের ভেতরেই রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওতে যাঁকে পা টিপতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নাকি খোদ এসডিএম-এর ব্যক্তিগত চালক বা ড্রাইভার মনোজ কুমার। উর্দি পরিহিত একজন সরকারি কর্মীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানোর দৃশ্য সামনে আসতেই নেটপাড়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনদের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করে। প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো যার ফলে একজন উর্দিধারী হোমগার্ডকে বাধ্য হয়ে এসডিএম-এর চালকের পা টেপাতে হলো? এই ঘটনার পর থেকেই কানপুরের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বর্তমান দৈন্যদশা ও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন সমালোচকরা। অনেকেই দাবি করেছেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের এর চেয়ে জলজ্যান্ত উদাহরণ আর হতে পারে না।
তবে এই তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশেষে পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং ঘাটপুরের এসডিএম অবিরল প্রতাপ সিং। তিনি এই ভিডিওটির সত্যতা এবং এর পেছনের প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করে সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার মাত্র দু’দিন আগে তাঁর চালক তীব্র গরমে এবং ভ্যাপসা আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। এরপর উপস্থিত লোকজন ও কর্মীরা তাঁকে তুলে এনে সরকারি বাসভবনের একটি তখতের ওপর শুইয়ে দেন। সেই সময় চালকের প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় ওই হোমগার্ড সহানুভূতিশীল হয়ে তাঁর হাত ও পা ডলে দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে এই ভিডিওটি রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দিয়েছে।
এসডিএম আরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কাজ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের পক্ষ থেকেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কর্মরত অবস্থায় সরকারি উর্দি পরে এ ধরনের কোনো অনৈতিক বা ঘরোয়া কাজ করা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। বর্তমানে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে জারি রয়েছে।