শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারতের ঐতিহাসিক দাপট! শুভমন গিলের অবিশ্বাস্য ক্যাচ দেখে চোখ কপালে তুললেন নেটিজেনরা!

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলমান প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রথম দুই দিনের মতো দুর্দান্ত ও অদম্য ছন্দের ধারা বজায় রেখে তৃতীয় দিনেও মাঠে নামল ভারতীয় ক্রিকেট দল। টানা দুই দিন ধরে দীর্ঘ ব্যাটিং ইনিংস উপহার দেওয়ার পর, ম্যাচের তৃতীয় দিনে বল হাতে মাঠে নেমেই লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে ভারত। মানব সুতার, কুলদীপ যাদব এবং তারকা পেসার মোহাম্মদ সিরাজের মারাত্মক বোলিং তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। সকালের প্রথম সেশনেই ভারতীয় বোলারদের দাপটে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং দুর্গ তছনছ হয়ে যায় এবং লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগেই লঙ্কানরা তাদের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলধে।
তবে এই পুরো সেশনে ক্রিকেটপ্রেমীদের সমস্ত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের সময় স্ট্রাইকে ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিস। ওই লঙ্কান তারকা ব্যাটার অফ-সাইডের দিকে একটি জোরালো ড্রাইভ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই এলাকাতেই অত্যন্ত সতর্কভাবে ফিল্ডিং করছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতে বাতাসে শরীর ছুড়ে দিয়ে একেবারে এক হাতে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ লুফে নেন গিল, যা দেখে সাজঘরে ফিরতে বাধ্য হন মেন্ডিস। মুহূর্তের মধ্যে গিলের এই চোখধাঁধানো ফিল্ডিংয়ের ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে অধিনায়কের এই অসাধারণ ক্ষিপ্রতা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা থেকে শুরু করে সাধারণ গ্যালারির সমর্থকরাও রীতিমতো অবাক ও রোমাঞ্চিত।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি শ্রীলঙ্কার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম খারাপ একটি সেশন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রথম ইনিংসে শক্তিশালী ভারতীয় দল পাহাড়প্রমাণ ৪৬২ রান তোলার পর ব্যাট করতে নেমেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু ভারতীয় বোলিং আক্রমণের মারাত্মক সুইং এবং গতির সামনে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ওপেনার নিশাত মাদুষ্কা ফার্নান্দো খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন, এবং লাহিরু উদারা ইগালাগামেগে করেন মাত্র ২৭ রান। পাশাপাশি অভিজ্ঞ দিনেশ চান্দিমাল মাত্র ৪ রান এবং কামিন্দু মেন্ডিস মাত্র ১৪ রান করে আউট হলে প্রথম সেশনের শেষভাগে শ্রীলঙ্কার স্কোর খাদের কিনারায় পৌঁছে দাঁড়ায় মাত্র ৯৯ রানে ৫ উইকেট।
তবে ম্যাচের সময় গড়ানোর সাথে সাথে খেলার গতিপ্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে লাঞ্চের পরবর্তী দ্বিতীয় সেশনটি শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়। সোশাল দিনুশা এবং নিরোশন ডিকভেলার মধ্যকার একটি দায়িত্বশীল ও লড়াকু জুটি ভারতীয় বোলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। তারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে ভারতীয় দলের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন। এক পর্যায়ে ৫১ ওভারের খেলা শেষ হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৬ রান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সোলাল দিনুশা এবং ডিকভেলা উভয়েই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ব্যক্তিগত অর্ধশতক (হাফ-সেঞ্চুরি) পূর্ণ করেন এবং প্রথম সেশনের বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে একটি সম্মানজনক জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান।