ইসকন দ্বন্দ্বে নয়া মোড়! বেঙ্গালুরু মন্দিরের দখল কার হাতে? সুপ্রিম কোর্টের বড় পদক্ষেপে চাঞ্চল্য

বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত ‘হরে কৃষ্ণ মন্দির’ এবং এর অধীনস্থ শিক্ষাঙ্গনের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—ইসকন বেঙ্গালুরু না ইসকন মুম্বই? দীর্ঘদিনের এই তীব্র আইনি সংঘাতে এবার এক বড় মোড় এসেছে। ১৬ মে, ২০২৫-এর সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খতিয়ে দেখতে এবং মামলাটির নিষ্পত্তির জন্য একটি নতুন বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই ঘটনায় ধর্মীয় ও আইনি মহলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবারে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ডিভিশন বেঞ্চের কাছে ইসকন মুম্বইয়ের আইনজীবী তীব্র আইনি জটিলতা তুলে ধরে একটি নতুন বেঞ্চ গঠনের আবেদন জানান। তিনি আদালতকে জানান যে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই সম্পত্তি ও প্রশাসনিক বিবাদের পুনর্বিবেচনার আবেদনটি এর আগে বিভিন্ন বিচারপতির বেঞ্চে ওঠলেও তা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পায়নি। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দিয়ে বলেন যে, আদালত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের আগের রায় খারিজ করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বিতর্কিত ‘শিডিউল-এ’ ভুক্ত সম্পত্তির ওপর নিজেদের মালিকানা বা দখল সংক্রান্ত সপক্ষে ইসকন মুম্বই বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে সম্পত্তিটি সম্পূর্ণভাবে ইসকন বেঙ্গালুরুর মালিকানাধীন বলেই রায় দেয় আদালত।

কিন্তু আইনি লড়াই এখানেই শেষ হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি ওকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ জি মসিহ ১৬ মে-র সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ইসকন মুম্বইয়ের আবেদনের ওপর একটি বিভক্ত রায় (split verdict) প্রদান করেন। বিচারপতি মাহেশ্বরী তাঁর রায়ে মন্তব্য করেন যে, রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ইসকন মুম্বই যথেষ্ট যৌক্তিক ও উপযুক্ত কারণ দেখাতে পেরেছে। ফলস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিশ জারি করে প্রকাশ্য আদালতে যুক্তিতর্ক শোনার পথ প্রশস্ত হয়।

২০১১ সালের ২৩ মে কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ইসকন বেঙ্গালুরুর পক্ষে শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই সময় হাইকোর্টের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালের স্থানীয় আদালতের একটি রায় বাতিল করা হয়েছিল। মূলত বেঙ্গালুরুর এই সুবিশাল মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং পরিচালনার অধিকার কার থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের এই আইনি লড়াই বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মন্দিরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আইনি জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty