বেঙ্গালুরুতে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি এআই বিশ্ববিদ্যালয়! চাকরির বাজার কাঁপাতে বড় ঘোষণা কর্নাটকের!

শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কর্ণাটক সরকার। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই কর্ণাটকের স্কুল স্তরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পঠনপাঠন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ‘এআই অক্ষরা অভিযান’ এবং ‘কোডিং গুরুকুল’ নামক দুটি অত্যন্ত অভিনব ও যুগান্তকারী কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের একেবারে স্কুলজীবন থেকেই কোডিং এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া হবে। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তিগত শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। শুধু তাই নয়, প্রযুক্তি শিক্ষাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিলিকন ভ্যালি হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরু শহরে দেশের প্রথম সরকারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
ভবিষ্যতের ডিজিটাল দুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের উদ্দেশ্যে একাধিক বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার শূন্য সরকারি পদ পূরণ করার এক বিরাট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ‘উদ্যোগ সেতু’ নামক একটি নতুন ও বিশেষ যোজনা চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত নতুন সংস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, তাদের প্রতি নতুন চাকরির বিপরীতে আগামী দুই বছর ধরে প্রতি মাসে প্রায় ২,৫০০ টাকা করে উৎসাহ ভাতা বা ইনসেনটিভ প্রদান করা হবে। সরকারের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই সুচিন্তিত পদক্ষেপে অন্তত এক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে।
গ্রামীণ এলাকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সুগম করতে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং সহ সমস্ত পেশাদারী বা প্রফেশনাল কোর্সগুলিতে ৭.৫ শতাংশ বিশেষ অনুভূমিক বা হরিজন্টাল সংরক্ষণের ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত ও আধুনিক করে তুলতে গঠিত বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে, যা রাজ্যের গোটা পরীক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও কর্ণাটক এক বিশাল লক্ষ্য স্থির করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।