ছেলের ওপর আক্রোশ! বাড়িতে না পেয়ে বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা সহ ৮

বাঁকুড়ার ইন্দাস থানায় এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) এক কর্মীকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর বাবাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ত্বরিত পদক্ষেপ করে এক স্থানীয় বিজেপি নেতাসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় খুনের মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আবদুল হাফিজ সম্প্রতি একটি বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় স্তরে বিভিন্নভাবে হেনস্থা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল হাফিজ ও তাঁর পরিবারকে। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা আবদুল হাফিজকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর বৃদ্ধ বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে টার্গেট করে। বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে এলোপাথারি বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইন্দাসজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। নিহতের স্ত্রী থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে। তদন্তে নেমে পুলিশ একে একে আটজন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে, যার মধ্যে একজন প্রভাবশালী বিজেপি নেতাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এবং অন্য কার কার মদত ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম মুখ সৌরভ দাস তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা সাধারণ মানুষের ওপর রাজনৈতিক হিংসা চালাচ্ছেন এবং পরিবারের নিরপরাধ বাবাদের নিশানা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সৌরভ দাসের এই হুঁশিয়ারি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জেরে বাঁকুড়ার ইন্দাসের রাজনৈতিক তাপমাত্রা এখন অনেকটাই চড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অশান্তি এড়াতে পুলিশি টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।