হু-হু করে বাড়ছে কেলেঘাইয়ের জল! সর্বনাশা প্লাবনের আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে নদীপারের মানুষের

ভরা বর্ষার দাপটে ফের একবার ভয়াবহ প্লাবনের কালো ছায়া নেমে এসেছে দুই মেদিনীপুর জেলায়। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার জেরে চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে কেলেঘাই নদীর জল। জলের এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেই কারণে নদী বাঁধের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে ময়দানে নেমেছে রাজ্য সেচ দফতর।

পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমানা স্পর্শ করে বয়ে চলা কেলেঘাই নদী বর্ষার মরশুমে বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। গত বেশ কিছুদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীর উত্তর অববাহিকায় চলা অবিরাম বৃষ্টির কারণে কেলেঘাই নদীতে হু-হু করে জল ঢুকছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, জলের এই প্রবল তোড়ের ফলে নদী বাঁধের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর জেরে বহু নিচু এলাকায় নদীমাতৃক জল ঢুকে পড়ার সুস্পষ্ট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই সেচ দফতরের শীর্ষ আধিকারিক ও প্রকৌশলীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন। নদী বাঁধের কোথাও কোনো ধরনের দুর্বল অংশ, ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে লাগাতার পরিদর্শন চলছে। যে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি এড়াতে বাঁধ মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ কর্মী বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা অত্যন্ত আশঙ্কার সুরে জানান, “প্রতিদিনই কেলেঘাই নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। যদি আকাশ পরিষ্কার না হয়ে আরও একটি দিন এইভাবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকে, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে চলে যাবে। বাঁধের বর্তমান অবস্থাকে ঘিরে প্রশাসনের আরও কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” এদিকে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির বা বৃষ্টি থামার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে কেলেঘাই নদীর জলস্তরের ক্রমবর্ধমান গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিচু ও প্লাবনপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।