“জীবনের শেষ দিনে প্রবল চাপ!” আশিসের মৃত্যুতে বিস্ফোরক মমতা, কাঠগড়ায় কোন ষড়যন্ত্র?

রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে রামপুরহাটে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে প্রবীণ এই নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থე থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রামপুরহাট এবং বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক ছিল। আশিসবাবু অত্যন্ত সাধারণ এবং বিনয়ী স্বভাবের মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, শিক্ষকতা ও সমাজসেবার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রামপুরহাটের মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

তবে এই শোকবার্তার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, জীবনের শেষ দিনগুলিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রবল মানসিক চাপ, লাগাতার অপমান এবং একাধিক মিথ্যা অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট মন্তব্য, এই ধরনের রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের যে মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে, তা নিয়ে আজ সকলের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রিত্বও সফলভাবে সামলেছেন তিনি। রামপুরহাটের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। প্রবীণ এই নেতার প্রয়াণে তাঁর পরিবার-পরিজন, ভক্ত, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রামপুরহাট শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ের জানলা দিয়ে আশিসবাবুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত খবর দেওয়া হলে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা নোটটিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিজের সততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, এই আকস্মিক মৃত্যুতে মুখ খুলেছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি জানান, আশিসবাবুর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, স্থানীয় স্তরে সকলের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক বজায় ছিল। পাশাপাশি, পুরো ঘটনায় পুলিশি তদন্তে পরিবারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।