ইরান যুদ্ধের জেরে তাসের ঘরের মতো ভাঙল ট্রাম্প প্রশাসন! পদত্যাগ ও বরখাস্তের নেপথ্যে আসল সত্যি কী?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর তীব্র প্রভাব গিয়ে পড়েছে সরাসরি ওয়াশিংটনের মসনদ ও পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে। যুদ্ধের নীতি ও কৌশল নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেই যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এখন স্পষ্ট। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয় পদত্যাগ করেছেন, নতুবা তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
৩টি প্রধান বিষয়:
জো কেন্টের পদত্যাগ: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম এজেন্সির পরিচালক জো কেন্ট।
সেনাপ্রধানের অপসারণ: যুদ্ধ চলাকালীনই আকস্মিকভাবে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করতে বলা হয়।
অন্যান্য প্রশাসনিক পরিবর্তন: সম্প্রতি অ্যান্ডি বেকারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও প্রশাসন ছেড়েছেন।
জো কেন্টের পদত্যাগ ও বিস্ফোরক অভিযোগ এই পুরো প্রশাসনিক পটপরিবর্তনে সবচেয়ে বড় নাম জো কেন্ট। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ, ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম এজেন্সি (NCTC)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের ১৭ই মার্চ তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কেন্ট অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক পদক্ষেপকে কিছুতেই সমর্থন করতে পারছেন না। তাঁর মতে, ইরান সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক বা বড় হুমকি ছিল না। উল্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের নির্দিষ্ট মহলের চাপে পড়ে এই অনাবশ্যক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প প্রশাসনের একসময়ের কট্টর সমর্থক এবং প্রাক্তন স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএ (CIA) কর্মী জো কেন্টের এই পদত্যাগ প্রশাসনের অন্দরে তৈরি হওয়া মতবিরোধের বড় লক্ষণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও হোয়াইট হাউস কেন্টের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান আমেরিকার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি ছিল এবং সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সামরিক পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
জেনারেল র্যান্ডি জর্জের অপসারণ ঘিরে গুঞ্জন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে এই সংঘাতের আঁচ কেবল বেসামরিক কর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বেও। গত ২ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ তাঁকে অবিলম্বে অবসর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও পেন্টাগনের তরফে এই অপসারণের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঠিক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই ধরনের রদবদল নিয়ে সামরিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়।
সবমিলিয়ে, ইরান সংঘাতের জেরে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।