ঘরে বসেই হাতে পান বিশ্বমানের রয়্যাল কাঠের আসবাব! সাহারানপুরের ৪ বছরের পুরনো এই শিল্পে কেন বুঁদ গোটা পৃথিবী?

উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক সাহারানপুর জেলা আজ কেবল ভারতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তার অপূর্ব কাঠের খোদাই শিল্পের জন্য এক অনন্য মর্যাদায় ভূষিত। এখানকার সুদক্ষ কারিগরদের নিখুঁত হাতের জাদুতে তৈরি খাট, সোফা, আলমারি, ডাইনিং টেবিল এবং নান্দনিক শোপিস আজ বিশ্ববাজারের আকর্ষণ। প্রাচীন ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই হস্তশিল্প আজ শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট চালিকাশক্তি। অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই এই পণ্যের চাহিদা আকাশছোঁয়া, যেখানে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন দিয়েও আসবাবপত্র তৈরি করিয়ে নিতে পারেন।
এই প্রাচীন শিল্পের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সাহারানপুরের কাঠের খোদাইয়ের শেকড় প্রায় ৪০০ বছর পুরনো, যার সূচনা হয়েছিল মুঘল আমলে। কাশ্মীর ও মুলতানের ঐতিহ্যবাহী কারিগররা মূলত এই শিল্পরূপটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুরুতে আখরোট কাঠে কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে কাঠ ফেটে যাওয়ার সমস্যায় কারিগররা রোজউড বা শিşam এবং অন্যান্য উন্নত মানের কাঠ ব্যবহার শুরু করেন। প্রায় ৩০০ বছর আগে মুলতানি কারিগররা কাঠের চিরুনি তৈরি করে তাতে খোদাইয়ের কাজ শুরু করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘মির্চ কি বেল’ নামে পরিচিত। কালক্রমে সাহারানপুরের ঘরে ঘরে এই শিল্প ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই শহরে প্রায় ২৫ হাজার ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি বড় রপ্তানিকারক সংস্থা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। পুরানি মান্ডি, সরাই শাহজি, ইসলামিয়া মার্গ এবং খাতা খেড়ির মতো এলাকাগুলোতে এই শিল্পের মূল প্রাণকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
জিআই-ট্যাগ (GI-Tag) প্রাপ্ত সাহারানপুরের এই হস্তশিল্প প্রতি বছর দেশকে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেয়। ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ODOP) প্রকল্পের অধীনে উৎপাদিত এই কাঠের জিনিসগুলোর চাহিদা আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবল। যদিও গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সরকারি নীতির পরিবর্তন, কোভিড মহামারী এবং বৈশ্বিক নানা সংঘাতের কারণে এই ব্যবসায় কিছুটা ধাক্কা লেগেছে, তবুও কারিগরদের অদম্য উৎসাহে এই ঐতিহ্য আজও সগৌরবে টিকে রয়েছে। আপনিও যদি আপনার ঘরকে রাজকীয় লুক দিতে চান, তবে সাহারানপুরের এই বিশ্বখ্যাত কাঠের শিল্পকর্ম ঘরে বসেই সহজে অর্ডার দিয়ে আনিয়ে নিতে পারেন।