লালকেল্লার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রাহুল! ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা বলে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান থেকে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রাহুল গান্ধি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শাসক শিবির তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছে যে, জাতীয় উৎসবে যোগ না দেওয়া এবং এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা। শনিবার লালকেল্লায় আয়োজিত জমকালো স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এদিনের এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সহ সমস্ত হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যোগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। কিন্তু দেশের এই অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতার অনুপস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা নেয়। ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ একটি তীক্ষ্ণ পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি সরাসরি রাহুল গান্ধির দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধি লালকেল্লার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো দায়িত্বশীল বিরোধী দলনেতা বা সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি কি এমন কাজ করতে পারেন?” প্রদীপ ভান্ডারির আরও অভিযোগ, জাতীয় পতাকার প্রতি ও দেশের এই উৎসবে রাহুলের দূরে থাকা ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অনীহা ও ঘৃণার প্রতিফলন ঘটায়। তিনি কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন যে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে এই আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তিনি এই পদের সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিজেপির মতে, এই ধরনের মানসিকতা আসলে একটি নির্দিষ্ট ‘দিমাগি নকশাল’ ইকো-সিস্টেমের নষ্ট রাজনীতির ফসল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই জাতীয় উদযাপনের বিভিন্ন প্রটোকল ও আসন বিন্যাস নিয়ে সরকার এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলে আসছে। এর আগে ২০২৩ বা তার পরবর্তী সময়েও এই ধরনের প্রটোকল সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব দূরত্ব বজায় রেখেছিল। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে নারীর ক্ষমতায়ন ও লোকসভা তথা বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিল পাস করার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধির এই অনুপস্থিতি নিয়ে শাসকদল ও বিরোধীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এই চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্ক এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।