স্বাধীনতা দিবসের সকালেই হঠাৎ গায়েব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট! নেপথ্যে কী চাঞ্চল্যকর রহস্য?

স্বাধীনতার আনন্দ এবং জাতীয় উদযাপনের আবহের মধ্যেই এক বড়সড় সাইবার ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায়। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে এবং লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঐতিহাসিক ভাষণের ঠিক আগের মুহূর্তে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় বিতর্কিত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। শনিবার সকালে আচমকা এই অ্যাকাউন্টটি স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক ও ডিজিটাল মহলে শোরগোল শুরু হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে। স্বাধীনতা দিবসের সকালে হঠাৎ করেই ইনস্টাগ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিশিয়াল পেজে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা দেখেন ‘User not found’ বার্তা। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে যে এই মুহূর্তে পেজটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন যে, তাঁদের দলের প্রগতিশীল কণ্ঠ রোধ করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা বেজে ১৬ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিজিৎ লেখেন যে কাপুরুষের মতো আচরণ করে সিজিপি-র অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আশ্চর্যজনকভাবে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। সকাল ৬টা বেজে ৪৫ মিনিটে আরেকটি পোস্ট করে অভিজিৎ জানান যে স্বাধীনতা দিবসের ভোরে তাঁদের অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁরা দীর্ঘ আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি সফলভাবে ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলো যাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা দলের কণ্ঠরোধ করার জন্য খাস স্বাধীনতা দিবসকেই বেছে নিয়েছিলেন। এহেন ‘কাপুরুষোচিত’ আক্রমণ চালিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদকে কোনোভাবেই স্তিমিত করা যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও এই ধরনের ডিজিটাল সেন্সরশিপের শিকার হতে হয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে। গত ২২ জুলাই রাজধানীর যন্তর মন্তরে বহুল আলোচিত NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে যখন তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক সেই সময়েও সিজিপি-র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে একই রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়েও সংগঠনের পক্ষ থেকে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় নিশানা করা হয়েছিল। স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় ও পবিত্র দিনে ঘটে যাওয়া এই প্রযুক্তিগত বা রাজনৈতিক নাটকের জেরে বর্তমানে সাইবার দুনিয়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।