স্বাধীনতা দিবসের সকালেই বড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল এসটিএফ! কোচবিহার থেকে পাক যোগে গ্রেফতার ৩ সন্দেহভাজন জঙ্গি

রাজ্যে স্বাধীনতা উদযাপনের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের হদিশ পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গত এক মাস ধরে চলা ধারাবাহিক গ্রেফতারির মাঝেই স্বাধীনতা দিবসের সকালে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে আরও ৩ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে অত্যন্ত সুকৌশলে ঘাপটি মেরে থেকে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই (ISI)-এর সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।

প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ভারতীয় মোবাইল ফোনের সিম কার্ড বেআইনিভাবে বাংলাদেশ হয়ে সোজা পাকিস্তানে পাচার করত। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি এই চক্রটি জাল ভারতীয় মুদ্রা বা জাল নোট তৈরির অবৈধ ব্যবসার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল বলে এসটিএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে কোচবিহার থেকে ধৃত এই তিনজনের সঙ্গে সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এসটিএফের জালে ধরা পড়া অপর সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গি রানা রউফের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

চলতি মাসের শুরুতেই রাজ্যে জঙ্গি হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছিল। পরবর্তীতে বর্ধমান জেলা আদালত হামিম মণ্ডল, তাঁর বান্ধবী এবং ১ সহযোগীকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত দেড় সপ্তাহের মধ্যে এ রাজ্যে জঙ্গি-যোগে মোট ৪ জন অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে এসটিএফের জালে বন্দি রানা রউফ ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে এ দেশের ভুয়ো ভোটার ও [Aadhaar Redacted] কার্ড তৈরি করে তপসিয়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় গোপনে রেকি করে বেড়াচ্ছিল। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের দীর্ঘ জেরার পর এবার এই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে এনআইএ (NIA)-এর কঠোর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তদন্তকারী দলের হাতে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘তুরুপের তাস’ হয়ে উঠেছে ধৃত পাক-জঙ্গি রানা রউফের একটি গোপন নোটবুক। এই নোটবুক এবং রানাকে লাগাতার জেরা করে এসটিএফের হাতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এসটিএফ সূত্রে জোরালো দাবি করা হচ্ছে যে, রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এমন ৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের সঙ্গে সরাসরি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগ রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে এই চক্রের সঙ্গে রানা রউফের অত্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। স্বাধীনতা দিবসের দিন কোচবিহার থেকে নতুন করে ৩ সন্দেহভাজনের গ্রেফতারি এবং একের পর এক পাক চর ধরা পড়ার ঘটনায় গোটা রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।