হাজার হাজার নার্সিং ছাত্রছাত্রীর মুখে হাসি! অনুপযুক্ত কলেজের জট কাটিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের

মধ্যপ্রদেশের দীর্ঘস্থায়ী নার্সিং কেলেঙ্কারি এবং ভুয়া কলেজ বিতর্কের জেরে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এল এক স্বস্তিদায়ক খবর। জবলপুর হাইকোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন অনুপযুক্ত নার্সিং কলেজের ২,৯৩৫ জন জিএনএম (GNM) শিক্ষার্থীকে বড় ধরনের আইনি স্বস্তি প্রদান করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে ওই ছাত্রছাত্রীরা আসন্ন নার্সিং পরীক্ষায় নির্বিঘ্নে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন।
মামলার নেপথ্য কাহিনী
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মধ্যপ্রদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা শত শত ভুয়া ও নামসর্বস্ব নার্সিং কলেজের স্বীকৃতি এবং অনিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। ল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশাল বাঘেলের দায়ের করা ওই মামলার ভিত্তিতে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তে প্রায় ৬০০টি কলেজকে অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়, যার ফলে ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
আদালতের রায় ও স্থানান্তরের প্রক্রিয়া
সম্প্রতি জবলপুর হাইকোর্টের বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি বিপি শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির সময় নার্সিং কাউন্সিলের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, অনুপযুক্ত কলেজ থেকে উপযুক্ত কলেজে স্থানান্তরের জন্য মোট ৪,৪৭৫ জন ছাত্রছাত্রীকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। যার মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২,৮১৩ জন নিবন্ধিত হন এবং শেষ পর্যন্ত ২,৩৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সফলভাবে অন্য কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
সমস্ত তথ্য যাচাই করে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই সমস্ত স্থানান্তরিত ও নিবন্ধিত ছাত্রছাত্রীদের অবিলম্বে আসন্ন পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে হবে এবং তাদের আটকে থাকা ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
গোয়ালিয়র-চম্বল বিভাগের কলেজগুলির আবেদন খারিজ
অন্যদিকে, গোয়ালিয়র ও চম্বল বিভাগের কিছু নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা আদালতে আবেদন করে দাবি করেছিলেন যে, স্থানীয় একটি তদন্ত কমিটি তাদের কলেজকে উপযুক্ত বলে ঘোষণা করায় সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্ত স্থগিত রেখেছে। তাই বিগত বছরগুলোর মতো তাদেরও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক।
তবে আদালত জানিয়েছে, ওই কলেজগুলির বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা জবলপুর বেঞ্চের বিচারাধীন মূল মামলার নজরে রয়েছে। যথাযথ সিবিআই তদন্ত ও সত্যতা যাচাই না করে ওই বিশেষ কলেজগুলির ছাত্রছাত্রীদের কোনো বাড়তি সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই সুষম রায়ে একদিকে যেমন হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হলো, তেমনই শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিল বিচারব্যবস্থা।