“হঠাৎ অসুস্থ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, দিল্লির এইমস-এ করালেন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি!”

হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অস্বস্তির জেরে তাঁকে দ্রুত দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে তাঁকে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় হঠাৎই শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তি অনুভব করায় তাঁকে এইমস-এ নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (Coronary Angiography) করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। تمام পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিস্তারিত বুলেটিন প্রকাশ করা হতে পারে।

রাজনৈতিক জীবন ও পরিচিতি:

মূলত হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা হলেও ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন জেপি নাড্ডা। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন। ছাত্রজীবনে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর সঙ্গে দীর্ঘ যুক্ত থাকার পর ১৯৮৯ সালে তিনি এই সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীকালে ১৯৯১ সালে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার সভাপতি পদের দায়িত্ব নেন নাড্ডা। ১৯৯৩ সালে হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথমবার বিধায়ক হন এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৮ সালে পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে সামলান। ২০১০ সালে তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ২০১২ সালে তিনি প্রথমবার রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর আকস্মিক অসুস্থতার খবরে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha