নালসার বিতর্কে সরাসরি বিসিআই-কে ধমক প্রধান বিচারপতির! কী বললেন সূর্য কান্ত?

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হলো বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। হায়দরাবাদের নামী আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ় অ্যান্ড রিসার্চ (নালসার)-এর ২০২৬ সালের স্নাতক পড়ুয়াদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত না করার যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তা অবশেষে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো বিতর্ক ও বিসিআই-এর ভূমিকা নিয়ে এ বার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মুখ খুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। নালসার বিতর্কে বিসিআই-এর অযাচিত হস্তক্ষেপকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে তোপ দেগে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন যে, পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং এই গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওই প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর নিজের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?

জানা গিয়েছে, নালসার-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন প্রতিষ্ঠানের স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের একাংশ। গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

এরপরই মাঠে নামে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণের বিরোধিতা কারা করেছিল, উপাচার্যের কাছে তা জানতে চায় তারা। শুধু তাই নয়, এর পরেই বিসিআই নালসার-এর ওই স্নাতক পড়ুয়াদের আইনজীবী হিসেবে রাজ্য বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা নিয়ে আইনি মহলে চরম প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

‘বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’

বিসিআই-এর এই বাড়াবাড়ি নিয়ে কড়া আপত্তি তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যদি পড়ুয়াদের প্রতিবাদ জানানোর কোনো কারণ থেকে থাকে, তা হলে সেখানে বার কাউন্সিল কেন হস্তক্ষেপ করবে? ছাত্রছাত্রীরা আমাকে চিঠি লিখেছে। এটি সম্পূর্ণ আমার এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেকার ব্যাপার। বার কাউন্সিলের এই নিষেধাজ্ঞা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ছিল।’

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করে প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনো শিক্ষার্থী ভুল কিছু করলেও তাঁর আইনি পেশায় আসার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করে প্রধান বিচারপতি জানান যে, তিনি একসময়ে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। পড়ুয়াদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সকলকে বলব, আপনারা নির্ভয়ে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করুন এবং সুপ্রিম কোর্টের বারে যোগ দিন। আইনি সহায়তার কোর্সের জন্যও আমরা আপনাদের তালিকাভুক্ত করব।’

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজর ও অন্তর্বর্তী নির্দেশ

শুক্রবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপিত হলে শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনের কোনো ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে বিসিআই বা কোনো রাজ্য বার কাউন্সিল কোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না।

এদিন মামলার শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সরাসরি বিসিআই-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি কড়া ভাষায় জানতে চান যে, এ রকম কঠোর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করার আগে কি আদৌ নিয়মনীতি মেনে বার কাউন্সিলে কোনো সভা ডাকা হয়েছিল কি না। সব মিলিয়ে, বিসিআই-এর একরোখা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের এই কড়া বার্তা ছাত্রমহলে স্বস্তি এনে দিয়েছে।