“ভেবেছিলেন ৩০০, কিন্তু খোঁজ মিলল ১০০০টির বেশি!”-সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়ার

শুক্রবার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় এমন বহু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা কার্যত কোনো উৎপাদনশীল কাজ না করে কেবল নামেই টিকে আছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লোকসান করলেও খাতায় কৃত্রিমভাবে মুনাফা দেখিয়ে আসছে।
গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘দানান্তারা’ প্রতিষ্ঠার পরই এই লুকানো চিত্র সামনে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রাবোও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রে এমন প্রতিষ্ঠান হয়তো তিন বা চারশোটি হবে। কিন্তু হিসাব কষে দেখা গেল, মোট সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি। এর বহু প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা না রেখে নিজেদের মতো করে চলে।’
ডিসেম্বরের মধ্যে বড় ছাঁটাইয়ের লক্ষ্য
ইতিমধ্যেই প্রায় ২৯০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র দেশে সর্বোচ্চ ৩০০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাবোও স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘আমরা ৭৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ করতে চলেছি। ভবিষ্যতে শুধু সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানই বহাল থাকবে, যেগুলো উৎপাদনশীল এবং দেশের জনগণের জন্য সত্যিকারের অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করতে পারে।’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম, কিংবা সম্ভবত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠন হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
২.৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সাশ্রয়
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এই আমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া অর্থাৎ ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরকারি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই সাশ্রয়কৃত অর্থের মধ্যে রয়েছে উচ্চপদস্থ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আকাশছোঁয়া বেতন, বিলাসবহুল ভবন ও গাড়ি ভাড়া এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক ভ্রমণের খরচ। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বেশি ব্যয় সাশ্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।