মাথায় বড় বিপদের আশঙ্কা! খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে প্রেমানন্দ মহারাজের সুরক্ষা বাড়ানোর আর্জি

বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের নিরাপত্তা ও শ্রী রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফালাহারী মহারাজ সরাসরি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত চিঠি পাঠিয়ে प्रेमानंद মহারাজের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগে গোটা সন্ত সমাজ ও ভক্ত মহলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে ফালাহারী মহারাজ দাবি করেছেন যে, কেলিকুঞ্জ আশ্রমে বর্তমানে দুটি পৃথক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে—একদিকে প্রকৃত সন্ত এবং অন্যদিকে কিছু নকল বা মুখোশধারী সন্ত। তাঁর অভিযোগ, কেলিকুঞ্জ আশ্রমের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রপার্টি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ভূমি মাফিয়াদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়েই মহারাজ বর্তমানে বেলবন আশ্রমে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই ভূমি মাফিয়া প্রকৃতির লোকজন মূলত সম্পত্তির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের জন্যই মহারাজের সঙ্গে তাদের চরম দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, ফালাহারী মহারাজের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হল কেলিকুঞ্জ আশ্রমে অপরাধমূলক মানসিকতার কিছু লোকের লুকিয়ে থাকা নিয়ে। তাঁর দাবি, প্রেমানন্দ মহারাজের পবিত্র নামের আড়ালে এই চক্রের লোকেরা প্রায় ১৪টি অবৈধ আশ্রম গড়ে তুলেছে। ভূমি মাফিয়াদের এই চক্র মহারাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, যার ফলে তাঁর জীবন সংশয়ের মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে। দেশের স্বার্থেই প্রেমানন্দ মহারাজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
এরই মাঝে আশ্রম থেকে শিশুদের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। ফালাহারী মহারাজের দাবি, কেলিকুঞ্জ আশ্রম চত্বর থেকে বেশ কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং তাদের কুখ্যাত কিডনি পাচার চক্র বা কিডনি চোর গ্যাংয়ের খপ্পরে পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাতরাসের এক ১৭ বছরের কিশোর অনুজ চৌধুরীর নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে তিন মাস ধরে তার পরিবার চরম উদ্বেগ ও আন্দোলন চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানা যায় যে, ওই কিশোর বৃন্দাবন থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে বরসানার একটি আশ্রমে নিরাপদে রয়েছে। এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সিবিআই বা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং প্রেমানন্দ মহারাজের কঠোর নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।