চামোলিতে টানেল ধসের মর্মান্তিক বিপর্যয়! সুড়ঙ্গ বসে গিয়ে মৃত অন্তত ৭, আতঙ্ক ছড়াল উত্তরাখণ্ডজুড়ে

উত্তরাখণ্ডের বুকে ফের এক ভয়াবহ টানেল ধসের ঘটনা ঘটে গেল, যা ২০২৩ সালের উত্তরকাশী জেলার সিল্কিয়ারা-বারকোট সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ভয়াবহ স্মৃতিকে আবার উসকে দিল। সেবার ১৭ দিন ধরে দীর্ঘ উদ্ধারকার্য চালিয়ে ৪১ জন শ্রমিককে বাঁচানো সম্ভব হলেও, ১৩ আগস্টের এই নতুন বিপর্যয় তার থেকেও বড় আতঙ্ক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজের সুড়ঙ্গে আচমকা ধস নামে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে অন্তত ৭ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১৪ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চামোলির মায়াপুরে সুড়ঙ্গ নির্মাণের ওই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ঠিক প্রাক্কালে আচমকা এই ধস নামে। চোখের পলকে জল ও কাদার প্রবল তোড়ে সম্পূর্ণ সুড়ঙ্গ পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সেই সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে ওই সুড়ঙ্গে অন্তত ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে হুড়মুড়িয়ে সুড়ঙ্গের একটা বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং শ্রমিকেরা ভেতরে আটকা পড়েন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (State Disaster Response Force এবং National Disaster Response Force) অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে জমা জল ও কাদা দ্রুত অপসারণ করে টানেলের গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নামে বিশেষ দল। বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারেই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর ২১ জন শ্রমিককে জীবিত বা আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি আহত শ্রমিকদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবিলম্বে সমস্ত উদ্ধারকার্য জোরদার করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি জানতে আজ শুক্রবার স্বয়ং তাঁর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ারও কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত।