চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে বিপত্তি! চোখের সামনে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ৭ বছরের শিশুর

তামিলনাড়ুর ধর্মপুরী জেলার একটি রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলন্ত ট্রেন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ফলে ট্রেনের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে এক সাত বছরের বালকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটির নাম ইয়াসিরিয়ান। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেলযাত্রীরা। ঘটনার পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গেছে শিশুটির পরিবার। রেলওয়ে রিজার্ভ পুলিশ স্টেশনে ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধর্মপুরী জেলার পাইসু আল্লি এলাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি মুনিয়াপ্পান তাঁর সাত বছরের ছেলে ইয়াসিরিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে আত্মীয়দের ট্রেন ধরতে সাহায্য করতে ধর্মপুরী রেল স্টেশনে এসেছিলেন। আত্মীয়রা যখন বেঙ্গালুরু-এরনাকুলাম এক্সপ্রেসে গিয়ে উঠছিলেন, তখন তাঁদের বিদায় জানাতে মুনিয়াপ্পানও শিশুটিকে নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। ট্রেনটি যখন ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলতে শুরু করে, তখন মুনিয়াপ্পান বুঝতে পারেন যে তাঁর ট্রেন থেকে নেমে যাওয়া উচিত। তিনি তড়িঘড়ি ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে নামার জন্য সচেষ্ট হন।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় মারাত্মক বিপত্তি। চলন্ত ট্রেনের গেট থেকে নামার সময় মুনিয়াপ্পানের পা হঠাৎ পিছলে যায় এবং তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাঁর কোল থেকে ছিটকে গিয়ে ছোট্ট ইয়াসিরিয়ান সরাসরি চলন্ত ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে যায়। এই আকস্মিক ও ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে পেয়ে স্টেশনে উপস্থিত আত্মীয়স্বজন এবং অন্যান্য যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন। যাত্রীদের আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে লোকো পাইলট দ্রুত ব্রেক কষে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ট্রেনটি কিছুটা পথ এগিয়ে যাওয়ার ফলে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে শিশুটির দেহ সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার করুণ মৃত্যু হয়।

এদিকে, এই হুড়োহুড়ির মধ্যে বাবা মুনিয়াপ্পান নিজেও গুরুতর আহত হন। দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তির পর স্থানীয়রা ও রেলকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কোয়েম্বাটুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হওয়া নিষ্পাপ শিশুটির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে রিজার্ভ পুলিশ অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এদিকে, এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে, যা দেখে প্রতিটি নেটনাগরিকের চোখ ভিজছে।