তরতরিয়ে বাড়ছে খুচরা দাম, এরই মাঝে পাইকারি বাজারে স্বস্তির খবর! কী বলছে নতুন ডব্লিউপিআই রিপোর্ট?

খুচরা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী পারদ যখন সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে, ঠিক তখনই অর্থনীতির আকাশে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল পাইকারি মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি সামান্য হ্রাস পেয়েছে। জুনের রেকর্ড করা ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে জুলাই মাসে এই হার এসে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৮ শতাংশে। ২০২২-২৩ সালকে নতুন ভিত্তি বছর ধরে সরকারের চালু করা সংশোধিত ডব্লিউপিআই (WPI) সিরিজের অধীনেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্সের সমীক্ষায় যেখানে পাইকারি মূল্যস্ফীতি ৯.৯৫ শতাংশে স্থির থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এই সামান্য পতন অর্থনীতিবিদদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

জুলাই মাসের এই পরিসংখ্যান এমন এক সময় সামনে এল, যখন ঠিক কিছুদিন আগেই প্রকাশিত খুচরা মূল্যস্ফীতির তথ্য সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া দামের কারণে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি জুনের ৪.৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাই মাসে ৪.৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে পাইকারি বাজারের এই হার কিছুটা কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদী মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ফলেই পাইকারি বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

জ্বালানির বাজারে বড় স্বস্তি লক্ষ করা গেছে। জুলাই মাসে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০.০৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এর আগের জুন মাসে ছিল ২৭.৪১ শতাংশ। এমনকি মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩০.৩৩ শতাংশ। পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির পেছনে এতদিন এই জ্বালানি খাতই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছিল। তবে অন্যান্য খাতে চাপের ছবিটা এখনও কিছুটা চড়া রয়েছে। যেমন—জুলাই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৫২ শতাংশ হয়েছে, যা জুনে ছিল ৭ শতাংশ। একইভাবে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়ে ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ডব্লিউপিআই ফুড ইনডেক্সের ক্ষেত্রে জুলাই মাসে হার ছিল ৬.৬৫ শতাংশ।

মুদ্রাস্ফীতির এই বহুমুখী চাপের মূল কারণ হিসেবে খনিজ তেল, খাদ্যপণ্য, মৌলিক ধাতুর উৎপাদন এবং রাসায়নিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে সরকার। উল্লেখ্য, সরকার চলতি বছরের জুন মাসেই পূর্ববর্তী ২০১১-১২ ভিত্তি বছরকে বাদ দিয়ে ২০২২-২৩ কে ভিত্তি বছর ধরে নতুন WPI সিরিজ চালু করেছে। এই নতুন সিরিজে আইটেমের সংখ্যা ৬৯৭ থেকে বাড়িয়ে ৯৫৭ করা হয়েছে, যেখানে সৌর, বায়ু ও পারমাণবিক শক্তির মতো আধুনিক শক্তির উৎসগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাইকারি বাজারের এই স্বস্তি আগামী দিনে খুচরা বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।