অবসরের পর পকেটে আসবে প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা! প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাম্পার সুসংবাদ

অবসর গ্রহণের পর নিয়মিত ও নিশ্চিত আয়ের মাধ্যম হিসেবে প্রবীণ নাগরিকদের কাছে ‘সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (SCSS) বরাবরই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং নিরাপদ একটি সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প। এই বিশেষ স্কিমে নির্দিষ্ট হারে আকর্ষণীয় সুদ পাওয়া যায় এবং সাধারণত এর বিনিয়োগের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকে। তবে সম্প্রতি এই স্কিমকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে কীভাবে অবসরের পরেও প্রতি মাসে ঘরে বসে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ আয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
বর্তমান আর্থিক বছরের নিয়ম অনুযায়ী, এই স্কিমে বার্ষিক সুদের হার বর্তমানে ৮.২ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এই আকর্ষণীয় সুদের হারে বছরে প্রায় ২.৪ লাখ টাকা সুদ পাওয়ার জন্য একজন বিনিয়োগকারীকে প্রায় ২৯.৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লগ্নি করতে হবে। অর্থাৎ, মাসিক হিসাব কষলে এই সুদের পরিমাণ প্রায় ২০,০০০ টাকার সমতুল্য হয়ে দাঁড়ায়। তবে এখানে একটি বিশেষ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, এই জমানো টাকার সুদ সরাসরি প্রতি মাসে হাতে আসে না। সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের নিয়ম অনুযায়ী, সুদের এই টাকা প্রতি তিন মাস অন্তর বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। ফলে বছরে মোট প্রায় ২.৪ লাখ টাকার সুদ অর্জিত হলে, প্রতি ত্রৈমাসিকে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০,০০০ টাকা করে জমা হবে।
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ঊর্ধ্বসীমা ও নিয়মাবলী রয়েছে। একজন ব্যক্তি এই স্কিমে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। প্রাথমিক বিনিয়োগের পাঁচ বছরের মেয়াদ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম মেনে এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ আরও অতিরিক্ত তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।
কর ছাড়ের বিষয়টি বিচার করলে দেখা যায়, এই স্কিমে করা বিনিয়োগ পুরনো কর ব্যবস্থার অধীনে ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্টের সেকশন ৮০সি (Section 80C)-এর আওতায় আকর্ষণীয় করছাড়ের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রাপ্ত মোট সুদের পরিমাণের উপর প্রযোজ্য আয়কর এবং টিডিএস (TDS)-এর নিয়মগুলি সম্পূর্ণ আলাদাভাবে এবং পৃথক নিয়মে প্রযোজ্য হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ, নিয়মিত ও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সুদের আয়ের উৎস হিসেবে এই স্কিমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান ৮.২ শতাংশ সুদের হারে প্রায় ২৯.৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে বার্ষিক প্রায় ২.৪ লক্ষ টাকা সুদ বা মাসিক প্রায় কুড়ি হাজার টাকার সমপরিমাণ আয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই আর দেরি না করে অবসর জীবনের এই দারুণ আর্থিক সুযোগটি লুফে নিন এবং নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতকে আরও সুরক্ষিত করে তুলুন।