বিহারবাসীর জন্য বিরাট স্বস্তি! স্যাটেলাইট টাউনশিপে জমি কেনাবেচার ওপর থেকে উঠল সমস্ত নিষেধাজ্ঞা

বিহারের ১২টি প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড স্যাটেলাইট টাউনশিপের আওতাধীন জমি মালিক এবং সম্পত্তি ক্রেতাদের জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে টাউনশিপের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ এলাকায় জমি কেনাবেচা এবং হস্তান্তরের ওপর বহাল থাকা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে পাটনা, সনিপুর, ছাপরা, পূর্ণিয়া, দারভাঙা, মুজফফরপুর, ভাগলপুরসহ ১২টি শহরের মূল অঞ্চল বা কোর জোন সহ সমগ্র এলাকায় দীর্ঘদিনের জটিলতা কেটে গেল এবং মানুষ এখন থেকে আগের মতো নির্বিঘ্নে তাদের স্থাবর সম্পত্তির বৈধ লেনদেন করতে পারবেন।

মূলত, পরিকল্পিত উপায়ে নতুন শহর গড়ে তোলা এবং অপরিকল্পিত রিয়েল এস্টেট কারবার ও আইনি বিরোধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে এর আগে ওই সমস্ত এলাকায় জমির হাতবদলের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা বা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের প্রক্রিয়া সামনে আসায় সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নগর উন্নয়ন ও আবাসন দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, জেলা সাব-নিবন্ধক কার্যালয়কে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে জমির রেজিস্ট্রি ও মালিকানা হস্তান্তরে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

যদিও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই বড়সড় ছাড় মিলেছে, তবে ভবন নির্মাণ বা জমির ব্যবহার সম্পূর্ণ অবাধ থাকছে না। নতুন ক্রেতাদের নির্মাণকার্য বা অন্য কোনো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিহার নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেভলপমেন্ট কন্ট্রোল রেগুলেশন বা ডিসিআর (DCR) এর নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, জমি কেনা এবং ঘরবাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরির অনুমতি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রক্রিয়ার আওতায় পরিচালিত হবে। এই নীতির ফলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার পাশাপাশি সরকারের আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের রূপরেখা আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।